চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানিহাটিতে শুক্রবার জুমার নামাজে খুতবায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা ও নামাজ অস্বাভাবিকভাবে বিলম্বিত করাসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুসল্লীদের একাংশের তোপের মুখে পদত্যাগ করেছেন ইমাম। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যোহর থেকে নামাজ ইমামতি করা থেকে বিরত থাকার জন্য বলে রানিহাটি বাজার ইদগাহ জামে মসজিদ কমিটি। এসময় তাকে জনগনের তোপের কারনে পদত্যাগ না করলে বহিস্কার করার কথা জানায় কমিটি। পরে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, ইমাম মাওলানা আলী হাসান মুজাহিদ।
মুসল্লীদের একাংশের অভিযোগ, গত শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) জুমার খুতবায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন ইমাম মাওলানা আলী হাসান মুজাহিদ। খুতবা চলাকালীন ও নামাজ শেষে এনিয়ে প্রতিবাদ জানায় মুসল্লীদের একাংশ। পরে এনিয়ে মসজিদ কমিটি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন তারা। এতে সাক্ষর করেন অন্তত অর্ধশতাধিক মুসল্লী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে মসজিদের দ্বোতলায় সভায় বসেন কমিটি।
সভায় উত্তেজিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইমামকে পদত্যাগের আহ্বান জানায় মসজিদ কমিটি। পদত্যাগ না করলে বহিস্কারেরও কথা জানায় কমিটি। এর প্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত কারন দেখিয়ে অব্যাহতি নেন ইমাম মাওলানা আলী হাসান মুজাহিদ। অব্যাহতিপত্রে তিনি বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এশার নামাজ পর্যন্ত ইমামতির আবেদন করলেও তা মানেনি রানিহাটি বাজার ইদগাহ জামে মসজিদ কমিটি।
স্থানীয় বাসিন্দা, মুসল্লী, মসজিদ কমিটি ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার জুমার নামাজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন ইমাম। বিষয়টি উল্লেখ করে আরও অন্তত ৭ দফা অভিযোগ তুলে ধরে অভিযোগপত্র দেন মুসল্লীরা। অভিযোগপত্রে তারা, বেগানা নারীদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ও কথাবার্তায় লিপ্ত হওয়া, ফরজ নামাজে অস্বাভাবিকভাবে সময় ক্ষেপন করা, বির্তকিত ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্ঠতা, ইমামের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আচরণগত সমস্যা এবং বিভিন্ন মতাদর্শের মুসল্লীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ উল্লেখ করেন।
রানিহাটি বাজার ইদগাহ জামে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান ইমামের অব্যাহতি নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এবিষয়ে তিনি বলেন, ইমাম নিয়োগ দেয়ার সময়ই আমরা সাধারণত কোন ব্যক্তি বা দলের নাম উল্লেখ করে মানহানিকর বক্তব্য প্রদান না করার জন্য বলে থাকি। গত শুক্রবার খুতবায় যে মন্তব্য ইমাম করেছেন, তা নিয়ে মুসল্লীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি কমিটিকে। আজ এনিয়ে সভায় বসা হয় এবং সভার এক পর্যায়ে ইমামকে ডাকা হয়। এসময় তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন। মুসল্লীদের একাংশের প্রতিবাদ ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাকে পদত্যাগের জন্য বলা হয়। এর প্রেক্ষিতে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
এবিষয়ে অব্যাহতি নেয়া ইমাম মাওলানা আলী হাসান মুজাহিদ বলেন, গত খুতবায় ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে আলোচনা ছিল। বক্তব্যের এক পর্যায়ে উদাহরণ দিতে গিয়ে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করি। এনিয়ে তার কোন মানহানিকর ও আপত্তিকর কোন মন্তব্য করিনি। মুসল্লীদের একটি পক্ষের তোপের মুখে ও কমিটির আহ্বানে আমি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছি। এশার পর্যন্ত নামাজে ইমামতির আবেদন করলেও তা করতে দেয়া হয়নি বলে দাবি করেন, মাওলানা আলী হাসান মুজাহিদ।
পড়ুন : রাজধানীর মহাখালীতে সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ


