তিতাস নদীর স্বচ্ছ জলে আবারও ফিরবে মাছের বিচরণ—এই প্রত্যাশায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে ২৮৬ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। মাছের উৎপাদন বাড়ানো, জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আখাউড়া পৌরশহরের বড়বাজার ঘাট এলাকায় তিতাস নদীর মুক্ত জলাশয়ে ১২১ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। নদীতে পোনা ছাড়ার সময় স্থানীয় মৎস্যজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর, আখাউড়া স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, আখাউড়া থানা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওয়াদুর রহমান মজুমদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুব্রত গোস্বামী, উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম, জেলা বিএনপির সদস্য খন্দকার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন আব্দুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।
উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, চলতি বছর আখাউড়া উপজেলায় মাছের পোনা অবমুক্ত করার জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি মৎস্য খামার থেকে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা দরে ২৮৬ কেজি মাছের পোনা সংগ্রহ করা হয়।
তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে ৫০ কেজি, আখাউড়া থানার পুকুরে ৩৫ কেজি, ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের পুকুরে ৩০ কেজি, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পুকুরে ৩০ কেজি এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে ২০ কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। বাকি ১২১ কেজি পোনা তিতাস নদীর মুক্ত জলাশয়ে ছাড়া হয়।
তিতাসের বুকে ছাড়া এসব ছোট ছোট মাছের পোনা একদিন বড় হয়ে নদীর জলজ প্রাণবৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। নদী ও জলাশয় রক্ষার পাশাপাশি নিয়ম মেনে মাছ আহরণ করা গেলে এর সুফল স্থানীয় মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষও পাবেন বলে মনে করছেন তাঁরা।
পড়ুন : তালতলীতে ছাগলের পিপিআর রোগ প্রতিরোধে দুই দিনব্যাপী টিকাদান শুরু


