বিজ্ঞাপন

আজ সিলেট যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি, বরণে ব্যাপক প্রস্তুতি

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো একদিনের সরকারি সফরে সিলেট যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো সিলেট নগরীতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।

সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। বেলা সোয়া ১১টার দিকে বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। পরে মোটর শোভাযাত্রা করে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সিলেট সার্কিট হাউজে পৌঁছাবেন তিনি।

সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর দুপুর সাড়ে ১২টায় হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে যাবেন তিনি।

বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নগর ভবনে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠান শেষে সার্কিট হাউজে অবস্থান করবেন তিনি। রাত ৮টায় বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ছাড়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।

রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, সফরের দিন এক হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আরও ২০০ সদস্য অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে পুলিশের বিশেষ ইউনিটগুলোও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট একটি পর্যটননগরী। রাষ্ট্রপতি যাতে সিলেটের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন এবং সফরকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপতিকে বরণ করতে প্রস্তুত। তার সফর উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নাগরিক সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে আমরা রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে চাই।’

এদিকে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে বড় বড় তোরণ বা গেট নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আলোকসজ্জা করার পাশাপাশি পুরো শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানিয়েছেন, নগর ভবনের সামনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রায় ১,২০০ আমন্ত্রিত অতিথির বসার জন্য প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সফরকে নির্বিঘ্ন করতে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুরো নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজিয়েছে। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (PGR) ও এসএসএফ (SSF)-এর পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি সফরে গিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে যান তিনি। রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল জেলাজুড়ে। তাকে স্বাগত জানাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছিল তোরণ, আলোকসজ্জা। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি।

শৈশব-কৈশোরের পরিচিত শহর ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়দের কাছে তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’ হিসেবেও পরিচিত।

সে দিন সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তার অবতরণ করেন তিনি। সেখান থেকে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে যান এবং সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে যান। সেখানে তার বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করেন।

কবর জিয়ারত শেষে তিনি শহরের কালীবাড়িতে নিজ বাসভবনে যান। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি রাত্রিযাপন করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেন। পরে তিনি সার্কিট হাউসে যান। সেখান থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়েন তিনি।

রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার ছির নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের পথ, সফরের সম্ভাব্য স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতি শুধু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি নন, তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। নিজ জেলার মানুষের কাছে তার এই ফিরে আসা স্থানীয়দের জন্য গর্ব ও আবেগের বিষয়।

জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের। তাকে ঘিরে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফর উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

পড়ুন : তিন মাসে দেশে কোটিপতি বেড়েছে ৫ হাজার

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন