বিজ্ঞাপন

খালিয়াজুরীতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চুরি: ফ্রিজ-আইপিএসসহ ২ যুবক গ্রেফতার

বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে অবস্থিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ইয়াসমিন (২২) ও মো. সুমন মিয়া (২৪) নামের দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন দুজনকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল ও এর আগের দিন (১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর) টানা দুদিনের অভিযানে তাদের আটক করা হয় এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া বেশ কিছু সরকারি মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই রাতের কোনো একসময়ে (আনুমানিক রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে) ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ চোর চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে সিঁড়ির কক্ষের পাশের দেয়ালে ছিদ্র করে এবং দরজার লক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

এরপর তারা নিচের তলার একটি কক্ষের তালা ভেঙে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যবহৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামাদি নিয়ে চম্পট দেয়। খোয়া যাওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে- একটি করে রেফ্রিজারেটর (ফ্রিজ), আইপিএস ও পানির মোটর এবং দুটি ভারী ব্যাটারি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।

ঘটনার পরদিন সকালে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক নিয়মিত অফিস করতে এসে কক্ষের তালা ভাঙা এবং ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় খালিয়াজুরী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে মাঠে নামে পুলিশ। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মঞ্জুর রহমানকে। তথ্যপ্রযুক্তি ও নিজস্ব সোর্সের দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে পুলিশ চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন মো. ইয়াসমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক টালবাহানা শেষে ইয়াসমিন চুরির ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

তার দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে পুলিশ আরেকটি অভিযান চালিয়ে মো. সুমন মিয়াকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চুরি যাওয়া একটি ফ্রিজ ও দুটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মঞ্জুর রহমান জানান, আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে চুরির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে এখনই সবার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছিল। সোর্সের সহায়তায় দুজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যে কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি মালামাল উদ্ধার ও অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত দুই যুবকের বিরুদ্ধে পেনাল কোড, ১৮৬০-এর কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এর আগে, নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের তালা ভেঙে মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ মার্চ শনিবার রাতে কোনো এক সময় এই চুরির ঘটনা ঘটে। এতে চিকিৎসা সরঞ্জামসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালামাল খোয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেছেন।

স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট মামুনুর রশিদ জানান, ২৮ তারিখ বিকেলে তিনি কাজ শেষে অফিস তালাবদ্ধ করে চলে যান। পরদিন রোববার সকালে এসে দেখেন মূল ফটকের তালা ভাঙা। ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, আলমারি ভেঙে জেনারেটর, সোলার সিস্টেম ব্যাটারি, কয়েকটি সিলিং ফ্যান ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এস এম তৌকির আহমদ বলেন, এখানে নিরাপত্তা প্রহরীসহ চারটি পদ শূন্য। শুধু একজন আয়া দিনের বেলা কাজ করেন। জনবল সঙ্কটের সুযোগেই এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আরেফিন আজিম চুরির ঘটনাকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে জানান, নিজস্ব ভবন না থাকায় বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনা অফিসের দু’টি কক্ষে সেবা কার্যক্রম চলছে। দ্রুত পৃথক ভবনের প্রয়োজন। খালিয়াজুড়ি থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পড়ুন : সঞ্চয়পত্রে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে নতুন ব্যবস্থা

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন