বিজ্ঞাপন

সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবন থেকে পড়ে আহত অমিত আর নেই

বিজ্ঞাপন

সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের বহুতল ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত অমিত ঘোষ আর নেই। আজ সোমবার সকাল পৌনে সাতটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা গেছে। অমিত ঘোষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ইংরেজি ভার্সনের ‘আইসোটোপ’ সেকশনের ছাত্র।

এর আগে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে অমিত কলেজের ৬ নম্বর ভবনের ১১ তলা থেকে পড়ে যায়। এতে গুরুতর জখম হয় সে। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরিবার তাকে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিল সে। সোমবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে অমিত ঘোষকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে সোমবার সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ শাখার বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের গ্রুপে শিক্ষকরা একটি বার্তা দিয়েছেন। তাতে লেখা হয়েছে, ‌‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অমিত ঘোষ আর আমাদের মাঝে নেই। আজ সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে অমিত ঘোষ ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পরলোকে পাড়ি জমিয়েছে। অমিতের অকাল প্রয়াণে সাউথ পয়েন্ট পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।’

এদিকে রামপুরা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর।

তিনি বলেন, ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অমিত ঘোষের ভবন থেকে পড়ে যাওয়া নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত, তা নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। শিক্ষকরা বলছেন, সে আত্মহত্যার উদ্দেশে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছে। তবে অভিভাবকরা তা মানতে নারাজ। তারা বলছেন, ভবনটি নির্মাণাধীন। কোনো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

অমিত ঘোষের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডির তথ্য অবশ্য ভিন্ন কথা বলছে। তার প্রোফাইলের বায়োতে অমিত ঘোষ নিজের জন্মতারিখ এবং মৃত্যুর তারিখ লিখে রেখেছেন। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘01/11/2007-13/09/2026’। ‘Stand proud. You’re limited edition. Only one ever created.’

ভবন থেকে পড়ার পর তার প্রোফাইলে আগে থেকেই মৃত্যুর তারিখ লেখা দেখে চমকে উঠেছেন শিক্ষক-অভিভাবকরা। তারা এটি দেখে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছেন।

তবে অভিভাবকদের আরেকটি পক্ষ বলছে, যে ভবন থেকে অমিত পড়েছে, সেই ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ১১ তলার পুরো খোলা। সেখানে এখনো কাজ চলমান। শিক্ষার্থীদের সেখানে যাওয়া নিষেধ। তারপরও কেন এবং কীভাবে অমিত ঘোষ সেখানে গিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।

সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনজন শিক্ষক ও দুজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবক জানান, রোববার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের (১১তলা) ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায় সে। উপুড় হয়ে পড়ায় তার নাক-মুখ ও মাথায় গুরুতর জখম হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবক শাকিলা আক্তার দীপা সাউথ পয়েন্ট স্কুলের একটি ফেসবুক গ্রুপে লিখেছেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের একটা ছেলে নিজে নিজেই লাফ দিয়েছে। সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে ওর ব্যাগে। সঙ্গে সঙ্গে ওকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন ওর কী অবস্থা তা বলতে পারছি না।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের সামনেই ঘটনাটা ঘটেছে। এখনো আমার হাত-পা কাঁপছে। স্থির হতে পারছি না। একদম মুখ-চোখ থেঁতলে গেছে। ছেলেটা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক সেই দোয়া করি।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে অধ্যক্ষ মো. শামসুল আলম এবং উপাধ্যক্ষ জেরিনা ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

পড়ুন : ইলিশ বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ: গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে, পদ্মার ইলিশ চায় ভারত

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন