মুন্সীগঞ্জ সদর ও শ্রীনগর উপজেলা থেকে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে পৃথক তিনটি পৃথক এলাকায় চেকপোষ্ট থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হাসান প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়স ২৫ বছরের উপরে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দল হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের কর্মী। তবে গ্রেপ্তার তরুণদের স্বজনদের দাবি, মাওয়ায় ঘুরতে যাওয়ার জন্য তাঁরা বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার যেকোনো সময় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে কিংবা জেলার বিভিন্ন সড়কে ঝটিকা মিছিল হতে পারে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত জেলার সব থানা এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়।
রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে শহরের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে চেকপোস্টে একটি হায়েস মাইক্রোবাস থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। একই রাতে পৌনে দুইটার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার হাতিমারা মোড়ে হাতিমারা তদন্তকেন্দ্রের চেকপোস্ট থেকে আরও ১১ জনকে একটি হায়েস মাইক্রোবাসসহ আটক করা হয়।
অন্যদিকে রাত দুইটার দিকে শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চেকপোস্ট চলাকালে ১০ জনকে একটি হায়েস মাইক্রোবাসসহ আটক করা হয়।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বহনকারী গাড়িতে মাস্কসহ ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিন’ লেখা বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
মঙ্গলবার সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার ২১ জনকে সদর থানায় রাখা হয়। বিকেলে স্বজনেরা খবর পেয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে এবং নিজেদের স্বজনদের ছাড়িয়ে নিতে থানার ফটকের সামনে জড়ো হন।
আটক ব্যক্তিদের একাধিক স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাঁরা শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, নয়াগাঁও, সিপাহিপাড়া ও কোটগাঁও এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা একে অপরের পরিচিত ও বন্ধু। সোমবার রাতে মাওয়া যাওয়ার জন্য তাঁরা বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। রাত পেরিয়ে সকাল এবং সকাল গড়িয়ে বিকেল হলেও তাঁরা বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা খোঁজ নিতে শুরু করেন। পরে তাঁরা জানতে পারেন, পুলিশ ওই তরুণদের আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে।
স্বজনদের ভাষ্য, পুলিশ তাঁদের জানিয়েছে, ওই তরুণেরা মিছিল করার জন্য মাওয়ায় যাচ্ছিলেন। তবে স্বজনেরা পুলিশের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী বলেন, ‘যারা আগস্টে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, মানুষ খুন করেছে, তাঁদের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যাচ্ছে। বিএনপি-আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ মিলে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। তাঁদের পুলিশ ধরছে না। ছোট ছোট ছেলেরা মাওয়া ঘুরতে যাবে, তাঁদের ধরে নিয়ে গেছে। আটকের কারণ জানতে থানায় গিয়েছিলাম। আমাদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। যারা দোষী, তাঁদের বিচার না করে নির্দোষ তরুণ ও দিনমজুরদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’
স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হাসান বলেন, ‘যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁদের স্বজনেরা তাঁদের নির্দোষ দাবি করতে পারেন। তবে তাঁদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাঁরা নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, শুধু তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলা নেওয়া হবে। কেউ নির্দোষ হলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
পড়ুন : নবনির্মিত কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ ভবনের উদ্বোধন


