যশোর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিনভর জেলা পুলিশের ৯টি থানা, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় একযোগে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়। এ সময় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার থামিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, চালকের বৈধতা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়টি যাচাই করা হয়।
দিনব্যাপী অভিযানে প্রায় দুই হাজার মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার তল্লাশি করা হয়েছে। তল্লাশির সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ৪৩টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১২টির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে মামলা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপরও নজরদারি করা হয়।
অভিযানের সময় কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তিন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের সংশ্লিষ্টতা ও অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, চুরি, ছিনতাই, মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, জেলার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। আকস্মিক চেকপোস্টের কারণে শহর ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতিও বেড়েছে।
যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম পিপিএম-সেবা বলেন, ‘মাদকদ্রব্য ত্যাগ করি, কিশোর গ্যাং নির্মূল করি, সুস্থ-সবল জীবন গড়ি’—এই বার্তা সামনে রেখে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কিশোর গ্যাং, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা কোনোভাবেই শিথিল করা হবে না। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সমন্বিত অভিযান আরও জোরালোভাবে পরিচালনা করা হবে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও চেকপোস্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পড়ুন : মুন্সীগঞ্জে ৩১ জন আটক, স্বজনদের দাবি ঘুরতে যাচ্ছিলেন তাঁরা


