বিজ্ঞাপন

বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত, এশিয়ান গেমসের সেমিতে বাংলাদেশ

বিজ্ঞাপন

বৃষ্টির কারণে চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে মাঠে নামতে হয়নি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে। ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

বৃহস্পতিবার জাপানের নিশিনের কোরিগি অ্যাথলেটিক পার্কে বাংলাদেশ ও চীনের ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিল স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়। নির্ধারিত সময়ে বৃষ্টি থেমে রোদ উঠলেও আগের ভারী বর্ষণে আউটফিল্ড ভেজা থাকায় খেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ক্রিকেটাররা ওয়ার্ম-আপ করলেও মাঠ খেলার উপযোগী হয়নি। এসময় আম্পায়াররা তিনবার মাঠ পরিদর্শন করেন।

২০ ওভারের ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ার পর সুপার ওভারের সম্ভাবনাও বাতিল হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী দুই দলের র‍্যাঙ্কিং বিবেচনা করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ ১০ নম্বরে থাকলেও চীনের অবস্থান ৩৬তম। র‍্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধানের কারণে ম্যাচ না খেলেই জয়ী ঘোষণা করা হয় বাংলাদেশকে।

আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেখানে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ভারত। শুক্রবার কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের মুখোমুখি হবে ভারতীয় দল। সেই ম্যাচে ভারত জিতলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এর আগে দুবার রৌপ্য ও একবার ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। এবারও পদকের লড়াইয়ে থাকা টাইগ্রেসরা সাম্প্রতিক এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারের স্মৃতি পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে।

অগ্নিপরীক্ষার গ্রুপে বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের গ্রুপটা যেন অগ্নিপরীক্ষার মতোই কঠিন। গ্রুপে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার—তিন দলই শক্তির বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। ফলে এই গ্রুপকে বাংলাদেশের জন্য কঠিন বললেও হয়তো কম বলা হবে।

বাস্তবতা বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারেরও অজানা নয়। তবে কঠিন গ্রুপ মানেই যে আগেই হাল ছেড়ে দিতে হবে, তা মনে করেন না তিনি। বরং তাঁর বার্তা, চ্যালেঞ্জ উপভোগ করে নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে খেলতে হবে।

জাপানের আইচি-নাগোয়াতে ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। তবে ফুটবল, ক্রিকেটসহ কয়েকটি খেলা শুরু হয়েছে এর আগেই। মেয়েদের ফুটবলে প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা একটায় শুরু হয় ম্যাচটি।

শুরুতেই এমন একটি দলের মুখোমুখি বাংলাদেশ, যারা কাগজে-কলমের শক্তির পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ও সাফল্যেও অনেক এগিয়ে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে উত্তর কোরিয়া ১১ নম্বরে, আর বাংলাদেশ ১০৭ নম্বরে। দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৯৬ ধাপ। এর সঙ্গে রয়েছে উত্তর কোরিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাফল্য।

বাংলাদেশ নারী দলের বড় সাফল্যের তালিকায় এখন পর্যন্ত দুটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাই সবচেয়ে উজ্জ্বল। এশিয়ান গেমসেও এর আগে মাত্র একবার খেলেছে বাংলাদেশ, ২০২২ সালের আসরে। সেবার গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচ ড্র করে বিদায় নিতে হয়েছিল।

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলেছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠেছিল তারা। এশিয়ার সেরা হয়েছে তিনবার। অলিম্পিকেও অংশ নিয়েছে দুবার। আর এশিয়ান গেমসে ছয়বার সোনার লড়াইয়ে নেমে তিনবারই জিতেছে।

এমন দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের প্রত্যাশা বাস্তবতার চেয়ে কল্পনার কাছাকাছি। তাই জয়-পরাজনের হিসাবের বাইরে গিয়ে নিজেদের পারফরম্যান্সকেই গুরুত্ব দিতে চাইছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে বাটলারের কথাতেও সেটিই ফুটে উঠেছে, ‘বাস্তবধর্মী লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি আমরা। আমরা ভালো করেই জানি, এমন একটি গ্রুপে খেলছি, যেখানে এশিয়ান ফুটবলের শক্তিশালী দলগুলোর দুটি—উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া আছে। এমনকি র‍্যাঙ্কিংয়ে মিয়ানমারও আমাদের চেয়ে এগিয়ে। পরিস্থিতি কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে আমাদের জন্য, তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। তবে এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আমরা খেলাটি উপভোগ করতে চাই।’

উত্তর কোরিয়ার পর বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী বৃহস্পতিবার হবে সেই ম্যাচ। র‍্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ১৯তম, বাংলাদেশের চেয়ে ৮৮ ধাপ এগিয়ে। পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলা দলটি এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছে নয়বার এবং জিতেছে তিনটি ব্রোঞ্জপদক। সিনিয়র পর্যায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে এখনো তাদের দেখা হয়নি।

শেষ ম্যাচে ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিংয়ে মিয়ানমার ৫৫তম, বাংলাদেশের চেয়ে ৫২ ধাপ এগিয়ে। শক্তির বিচারে তারাও পিছিয়ে থাকার মতো দল নয়। তবে তিন প্রতিপক্ষের মধ্যে এই ম্যাচটিই বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলকভাবে কিছুটা আশার জায়গা তৈরি করছে।

এর কারণ, তিন দলের মধ্যে একমাত্র মিয়ানমারের বিপক্ষেই বাংলাদেশের মেয়েদের একাধিকবার খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এখন পর্যন্ত দুবার মুখোমুখি হয়ে একবার জিতেছেও বাংলাদেশ। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এবারই প্রথম সিনিয়র পর্যায়ে দেখা হবে। আর উত্তর কোরিয়ার কাছে গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে ৫–০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।

সেই হিসাবেই হয়তো মিয়ানমার ম্যাচকে সামনে রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে কোচ বাটলারও জানেন, অতীতের একটি জয় দিয়ে বর্তমানের ম্যাচ জেতা যায় না। তাই প্রথম দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শেষ ম্যাচে ভালো করার চেষ্টার কথা জানিয়েছেন তিনি, ‘আমাদের দেশে তো মেয়েদের নিয়মিত কোনো লিগই নেই! তাই এই ম্যাচ নিয়ে আমাদের বড় কোনো ফলাফলের প্রত্যাশা না করে বাস্তববাদী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইতিবাচক ও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে চাই। দেখা যাক, প্রথম দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে কতটা কাজে দেয়।’

বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ শুধু প্রতিপক্ষের শক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ধাক্কা খেয়েছে দল। ফর্মে থাকা ডিফেন্ডার নবীরণ খাতুন চোটের কারণে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। তবে নবীরণ ছাড়া স্কোয়াডে আর কারও চোটের সমস্যা নেই।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে কঠিন পথ। প্রতিপক্ষের শক্তি ও র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধানও তাদের জানা। তবু সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ উপভোগ করেই মাঠে নামতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

পড়ুন : বাংলাদেশ-নেপালের সিরিজ : চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন