মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে তদন্তের নির্দেশ জারির পরপরই প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন এবং পরে সেটি অস্বীকার করার ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের ডেকে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চসার ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নে অনিয়ম, বদলি ও পুনঃপদায়নে অবৈধ লেনদেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৬ আগস্ট একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা। উপসচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত স্মারক নং-৮০৬-এর চিঠিতে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে দ্রুত সুস্পষ্ট মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরুর পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিজের কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের ডেকে মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন ইউপি সচিব মো. রুহুল আমিন সবুজ। এ সময় পরিষদের একাধিক সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। তবে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন বা বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টিই অস্বীকার করেন।
ইউপি সচিব মো. রুহুল আমিন বলেন, আমি কোনো সংবাদ সম্মেলন করিনি। সাংবাদিকরা আমার কাছে জানতে এসেছিলেন। আমি কেবল তাঁদের উত্তর ও বক্তব্য দিয়েছি।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন না। এমনকি পরিষদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও বক্তব্য দিতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ইউপি সচিব এ বিষয়ে কোনো অনুমতি নেননি বলেও জানান তিনি।
পড়ুন : হাওরের বুকে থমকে গেল যুবকের জীবন: বজ্রপাতে নিভল পরিবারের আলো


