নরসিংদীর মাধবদীতে ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা জাহানারা বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে উপ-পরিদর্শক এস.আই মোহাম্মদ।
এর আগে আজ দুপুরে মাধবদী থানায় সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অ্যাপস) মোঃ আশিকুর রহমান জানান, গত ৩০ জুলাই মাসে রাত পৌনে ৮টার দিকে মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্পনৈগড় গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় নামাজরত অবস্থায় জাহানারা বেগমকে কুপিয়ে নৃশংভাবে হত্যা করা হয়। এ সময় তাঁর গলায় থাকা একটি সোনার চেইন লুট করা হয়।
তিনি বলেন, ঘটনার পর নিহতের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তভার পান মাধবদী থানার এসআই ইউসুফ আহমেদ। পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে থানা পুলিশ ও ডিবির সহযোগিতায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয় বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন: স্বর্পনৈগড় গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২৭), মোঃ ছায়েদ এর ছেলে কাদির মিয়া (২৭) ও আকমান মিয়ার ছেলে আবু মিয়া (২৬)। তারা তিনজন মাদবসেবী ও তাদের মধ্যে আবু মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বাকি দুজনকে আগেই আদালতে প্রেরণ করা হলে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশিকুর রহমান আরো জানান, প্রাথমিক জবানবন্দিতে আবু মিয়া জানান, ঘটনার প্রায় ৭-৮ মাস আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় বসে আসামিরা জাহানারা বেগমের গলার সোনার চেইন চুরির পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে তারা বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে বিদ্যুৎ চলে এলে ভুক্তভোগী তাদের চিনে ফেলায় তাঁকে চেপে ধরে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয় এবং সোনার চেইনটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত সোনার চেইন উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
পড়ুন : তহশিলদারের ‘ভুয়া খারিজে’ বারহাট্টায় জমি দখলের অভিযোগ


