বিজ্ঞাপন

তহশিলদারের ‘ভুয়া খারিজে’ বারহাট্টায় জমি দখলের অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

সবেমাত্র মাটিতে শিকড় গাড়তে শুরু করেছিল কচি ধানের চারাগুলো। বুকভরা আশা নিয়ে সেই জমির দিকে তাকিয়ে ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবার। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে সেই সবুজ খেতের ওপর দিয়ে নির্দয়ভাবে চালিয়ে দেওয়া হলো ট্রাক্টর। মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গেল কৃষকের স্বপ্ন। নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের সোনাউল্লারচর গ্রামে এভাবেই জোরপূর্বক ফসল নষ্ট করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী জমির মালিক মোছা. সাবিনা রহমান। ঢাকায় বসবাস করলেও তার কেনা ১৬ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করেন তার বোন ও ভাগনে। ২০২২ সালে সাবকবলা দলিলে কেনা জমি নিয়েই প্রতিবেশী রহিছ মিয়ার পরিবারের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রহিছ মিয়া (৬৫), তার স্ত্রী রহিমা আক্তার (৬০) এবং তিন ছেলে- জিবন, সুমন ও সাজ্জাদ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাবিনার জমিতে অতর্কিত হামলা চালান। তারা ট্রাক্টর দিয়ে সদ্য রোপণ করা প্রায় অর্ধেক জমির ধান নষ্ট করে দেন। এরপর সেখানে তড়িঘড়ি করে নতুন ধান লাগিয়ে জমিটি দখলে নেন। এ সময় সাবিনা ও তার স্বজনেরা বাধা দিতে গেলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কথায় এই বিরোধের পেছনে উঠে এসেছে এক ‘ভুয়া খারিজের’ চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রাম কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম জানান, সাবিনার জমির কাগজপত্র সম্পূর্ণ সঠিক। মাসখানেক আগে স্থানীয় শালিসে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যেহেতু সাবিনা ধান রোপণ করেছেন, ফসল তিনিই পাবেন। জমির মালিকানার বিষয়টি আদালত নির্ধারণ করবে। কিন্তু রহিছ মিয়া তার স্ত্রীর নামে ভুয়া খারিজ তৈরি করে দখলের চেষ্টা চালান।

ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরীও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “স্থানীয় তহসিলদারের যোগসাজশে তৈরি করা ভুয়া খারিজই এই দ্বন্দ্বের মূল কারণ। ফসল নষ্ট করার এই অপরাধের সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত রহিমা আক্তার স্থানীয় শালিসের সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। তিনি বলেন, “খারিজ মূলে জমির মালিক আমি, তাই নতুন করে ধান লাগিয়েছি।”

এ বিষয়ে সিংধা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল দত্তের কাছে জানতে চাইলে তিনি জমির খতিয়ানে গড়মিলের বিষয়টি স্বীকার করেন। জেনেও কেন খারিজের সুপারিশ করলেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “খারিজ নেওয়ার সময়ই অনুমান করেছিলাম এটা নিয়ে ঝামেলা হবে।”

তবে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা বলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজেদুল ইসলাম। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভুয়া খারিজের সত্যতা পাওয়া গেলে তা অবিলম্বে বাতিল করা হবে। এর সঙ্গে তহসিলদারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চোখের সামনে কষ্টার্জিত ফসল নষ্ট হওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবারই বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সাবিনা রহমান। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পড়ুন : মমেক হাসপাতালে আগুন : মৃত্যু নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন