ঢাকার ধামরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. খালিদ হোসেন (২৪) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রবিউল (২০) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ধামরাই-কালিয়াকৈর বাইপাস সড়কের পাড়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে খালিদ হোসেন ও রবিউল একটি মোটরসাইকেলে করে ধামরাই-কালিয়াকৈর বাইপাস সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পাড়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছানোর পর মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে থাকা একটি ড্রাম ট্রাকের পেছনে গিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আরোহী দুজনই গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মো. খালিদ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত রবিউলকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
নিহত মো. খালিদ হোসেন ধামরাই উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের ছোট বাঙালপাড়া গ্রামের হযরত আলীর ছেলে। তিনি গাজীপুর জেলায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থল থেকে তিনি কোথায় যাচ্ছিলেন বা দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি কে চালাচ্ছিলেন—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ধামরাই-কালিয়াকৈর বাইপাস সড়কের বিভিন্ন অংশে রাতে ভারী যানবাহন চলাচল করে। সড়কের ওপর কিংবা পাশে ভারী যানবাহন অবস্থান করলে অনেক সময় পেছন থেকে আসা যানবাহনের চালকদের জন্য তা দূর থেকে স্পষ্টভাবে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার রাতের দুর্ঘটনাটি ঠিক কী কারণে ঘটেছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতিতে চলছিল কি না, কিংবা সড়কে থাকা ড্রাম ট্রাকটির অবস্থান ও দৃশ্যমানতা কেমন ছিল—এসব বিষয়ও দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। দুর্ঘটনার পর ড্রাম ট্রাকটির চালক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। পুলিশ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, যানবাহনের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ কনস্টেবল খালিদ হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। একজন কর্মরত পুলিশ সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যেও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় আবারও ধামরাই-কালিয়াকৈর বাইপাস সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপ, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ভারী যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখা এবং সামনে থাকা যানবাহনের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি। একই সঙ্গে সড়কে ভারী যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা হলে সেটি যথাযথভাবে দৃশ্যমান করার ব্যবস্থাও প্রয়োজন। তবে এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এসব কোনো একটি কারণকে দায়ী করার আগে পুলিশি তদন্তের ফলাফল জানা প্রয়োজন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ড্রাম ট্রাকটির অবস্থান নিয়েও আলোচনা চলছে। ট্রাকটি চলন্ত অবস্থায় ছিল, নাকি সড়কের ওপর বা পাশে দাঁড়িয়ে ছিল—এ বিষয়টি পরিষ্কার হলে দুর্ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলটির গতি, চালকের নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কের তৎকালীন পরিস্থিতিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পাড়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান গাজীপুর জেলায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. খালিদ হোসেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত রবিউল বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পড়ুন : জাতীয় গ্রিডে আগামীকাল যুক্ত হচ্ছে ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
সা/


