একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবস্থান সঠিক ছিল না—সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দলটি এমন অবস্থান মেনে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক একাত্তরের বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা জামায়াতে ইসলামী মেনে নিলে অনেক প্রশ্নেরই সমাধান হয়ে যেত। তিনি আরও বলেন, আইন অঙ্গনে আব্দুর রাজ্জাক এখনো প্রাসঙ্গিক।
এ সময় আব্দুর রাজ্জাকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জামায়াতের আইনজীবীদের উপস্থিত না থাকা নিয়েও সমালোচনা করেন আইনমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের ভিতরে অনেক রিফর্মেশন করার বিষয় আছে।’
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকার নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, ‘‘মানব পাচার হলো সবচেয়ে গুরুতর, অমানবিক এবং নিষ্ঠুর কাজগুলোর একটি। এই প্রক্রিয়ায় ঠগ, অপরাধী ও মাফিয়ারা অর্থ আদায় করে। তারা এ দেশের জীবনের বিনিময়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। সরকার এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আমরা বেশ কিছু আইন সংশোধন করেছি। আমরা মানব পাচারের সংজ্ঞাকে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত করেছি, যা মানব পাচারের বিস্তৃত পরিসরে প্রয়োগ করা যেতে পারে। ২০২৬ সালের মানব পাচার আইনের অধীনে আমরা এই ধরনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমরা ১৮৮৭ সালের জুয়া আইন সংশোধন করেছি। অনলাইন জুয়া, পাচার এবং এ জাতীয় অবৈধ কার্যক্রমকে আমাদের আইনি কাঠামোর আওতায় এনেছি। এছাড়া আরও কিছু আইন প্রবর্তন করেছি, যা মানব পাচারের দিকটিও কভার করতে পারে।’’
আইনমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে মানব পাচার বিষয়ক প্রোটোকল অনুসমর্থন করেছে। তখন থেকেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে।
নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে আমাদের নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের কিছু ঘাটতি থাকতে পারে, তবে আমরা আপনাদের যেকোনো ভালো সুপারিশকে স্বাগত জানাই।’’
পড়ুন: ট্রেনে নারী কোচ: খসড়া আইনে স্থান-সংখ্যা অস্পষ্ট, বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়
আর/


