টানা তিন দফা কমার পর দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন মূল্য অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট হলমার্ক করা স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। একই দিন সকাল ১০টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হবে।
বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে দামের ওঠানামার মধ্যে থাকা দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও নতুন মূল্য কার্যকর হলো। এর আগে টানা তিন দফায় স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। সর্বশেষ দাম কমার একদিন পরই আবার মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। এখানে এক ভরি স্বর্ণের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম।
আগের নির্ধারিত দামের তুলনায় এবার প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে যারা নতুন করে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের অলংকার কিনবেন, তাদের আগের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।
বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব নির্ধারিত মূল্যে স্বর্ণ বিক্রি করতে হবে।
স্বর্ণের দাম বাড়ানোর আগে সর্বশেষ গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই দিন ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এর আগে আরও দুই দফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়। অর্থাৎ টানা তিন দফা মূল্য কমার পর এবার আবারও দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এসেছে। ফলে স্বর্ণের বাজারে দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
বাজুসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে দেশের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের বাজারমূল্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে দেশের খুচরা বাজারেও। সেই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ কমিটি নতুন দাম নির্ধারণ করেছে।
স্বর্ণের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় বিবেচনার পর কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়।
বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ কোনো ক্রেতা স্বর্ণের অলংকার কিনলে স্বর্ণের ওজন ও নির্ধারিত বাজারদরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অলংকার তৈরির মজুরিও দিতে হবে।
তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অর্থাৎ বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে প্রযোজ্য ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং ক্রেতার কাছ থেকে আলাদা করে ভ্যাট নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
এ নির্দেশনা দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য বলে জানিয়েছে বাজুস।
পুরোনো স্বর্ণের অলংকার পরিবর্তন বা এক্সচেঞ্জ করার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরোনো অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ কমাতে হবে।
অর্থাৎ কোনো ক্রেতা পুরোনো স্বর্ণের অলংকার দিয়ে নতুন অলংকার নিতে চাইলে পুরোনো অলংকারের মূল্য নির্ধারণের সময় সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী মজুরি, পাথরের মূল্য এবং নির্ধারিত ১২ শতাংশ বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে, পুরোনো স্বর্ণের অলংকার সরাসরি বিক্রি বা পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অর্থাৎ কোনো গ্রাহক পুরোনো অলংকার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মূল্য হিসাব করা হবে এবং সেখান থেকে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে।
বাজুস আরও জানিয়েছে, এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজুসের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেই পুরোনো স্বর্ণের মূল্য হিসাব করতে হবে।
নতুন করে স্বর্ণের দাম বাড়ায় অলংকার কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের ব্যয় কিছুটা বাড়বে। বিশেষ করে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ায় বড় পরিমাণে স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
তবে স্বর্ণের চূড়ান্ত অলংকারের মূল্য শুধু স্বর্ণের বাজারদরের ওপর নির্ভর করবে না। এর সঙ্গে অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ যুক্ত হতে পারে। তাই দোকানভেদে অলংকারের মোট বিক্রয়মূল্যে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী মূল্য সমন্বয় বা নতুন সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।
ফলে আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা দরে বিক্রি হবে।
টানা তিন দফা দাম কমার পর এবার স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারে আবারও দামের পরিবর্তন দেখা গেল। তেজাবি স্বর্ণের দামসহ সার্বিক বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে বাজুস আবারও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করতে পারে। তবে নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সর্বশেষ ঘোষিত মূল্যই দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর থাকবে।


