পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, যারা দলীয় স্বার্থে ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এই সরকার দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। অথচ এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যারা লংমার্চ করছে, তারা কী বক্তব্য দিচ্ছে, কী ধরনের ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে এবং তাদের কী ধরনের মতলব রয়েছে জনগণকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারাপুরে ভুলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর-শিবপুর-রাধিকা আঞ্চলিক মহাসড়কের কড়ইকান্দি ফেরিঘাট থেকে কোনাঘাট পর্যন্ত অংশের নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এই কথা বলেন। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৩২ কোটি ২২ লাখ টাকা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, এই সড়ক নির্মাণ হলে বিশেষ করে বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়বে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকটি উপজেলা দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। এ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে এসব এলাকায় বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া নয়, কুমিল্লার কয়েকটি উপজেলারও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক মাঠে বিচরণ করা ও বক্তব্য দেওয়া তাদের অধিকার। তবে যারা মব সৃষ্টি করছে, নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে এবং মব তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে দেওয়া যাবে না।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মোফাজ্জল হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ খালেক পিএসসি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার, অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন জিয়া, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভৌত ও অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহসানুল হক প্রমুখ।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হলে বাঞ্ছারামপুরসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ ও উন্নত হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে গতি বাড়বে। এতে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পড়ুন : নেত্রকোনায় ডিবি পুলিশের ধাওয়া: কাভার্ডভ্যান ভর্তি কম্বল জব্দ


