বিজ্ঞাপন

নিজের কিডনি দিয়েও টাকার অভাবে স্বামীকে বাঁচাতে পারছে না ইউপি সদস্য নাসিমা পারভীন

বিজ্ঞাপন

এক সময় নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ইউপি সদস্য নাসিমা পারভীন। আজ সেই মানুষটিই স্বামীর চিকিৎসার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে সহযোগিতা চাইছেন। এক হাতে স্বামীর ওষুধ, অন্য হাতে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব এভাবেই কঠিন বাস্তবতার সাথে লড়াই করছেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য নাসিমা পারভীন (৩৮)।

ইউপি সদস্য নাসিমা পারভীনের স্বামী খামার বড়ধুল পূর্বপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মালেক (৫১)। আব্দুল মালেক পেশায় এক স্টুডিও ব্যবসায়ী। তিনি সাড়ে ৪ বছর ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছেন। তার দুই চোখ ও দুইটি কিডনি একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। স্বামীর চিকিৎসায় ইতোমধ্যে খরচ হয়েছে ৫০ লাখ টাকারও বেশি। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে বিক্রি করতে হয়েছে নিজের থাকার বাড়ি। মাথায় উঠেছে আরও ১৪ লাখ টাকা ঋণ। তবুও স্বামীকে সুস্থ করার লড়াই থামেনি নাসিমা পারভীন।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্থানীয় বড়ধুল বাজারে তার স্বামীর একটি ছোট স্টুডিও ছিল। ছবি তোলা ও প্রিন্টের পাশাপাশি লুঙ্গি ও জুতার ব্যবসাও করতেন আব্দুল মালেখ। সেই আয়েই দুই সন্তান নিয়ে ভালোই চলছিল সংসার। কিন্তু প্রায় চার বছর আগে মালেকের শরীরে একের পর এক জটিলতা দেখা দেয়। আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতাসহ নিজেদের যা কিছু ছিল, সব দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো স্বামীকে সুস্থ করতে পারিনি। একটি খাটের কোণে অসুস্থ হয়ে শুয়ে আছেন আব্দুল মালেক। পাশে বসে কখনো খাবার তুলে দিচ্ছেন স্ত্রী, কখনো খাওয়াচ্ছেন ওষুধ। আবার মানুষের নানা সমস্যা নিয়ে ছুটতে হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদে। স্বামীর সেবা আর মানুষের দায়িত্ব দুই দিক সামলাতে গিয়ে যেন নিজেকেই ভুলে গেছেন তিনি। স্বামীর দুটি কিডনি ও দুটি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতি সপ্তাহে ওষুধ বাবদ খরচ হয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। সেই ব্যয় চালানোর সামর্থ্যও এখন আর তার নেই।

ইউপি সদস্য নাসিমা পারভীন বলেন, স্বামীকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিধান্ত নিয়েছি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারসহ আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রয়োজন প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। একদিকে স্বামীর চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎসব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমার বড় ছেলে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা শেষ করেছে। ছোট মেয়ে সিরাজগঞ্জ মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষে।

নাসিমার ভাষ্য, তার স্বামীর দুটি কিডনি ও দুটি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতি সপ্তাহে ওষুধ বাবদ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু এখন সেই খরচ চালানোর সামর্থ্যও তার নেই। কথা বলতে বলতে নাসিমা তুলে ধরেন তার অসহায়ত্বের কথা। স্বামীকে ভালো খাবার খাওয়াতে পারছি না। সন্তানদের নিয়ে তিন বেলা পেট ভরে খাব, সেই নিশ্চয়তাও নেই। অথচ একসময় আমিই কত মানুষকে সাহায্য করেছি। আজ নিজের স্বামীর চিকিৎসার জন্য আমাকে মানুষের কাছে হাত পাততে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, একসময় মানুষের বিপদে ছুটে গিয়েছি, এখন আজ নিজেই বিপদের সাগরে। স্বামীকে বাঁচাতে শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে ফেলেছি। এখন আমাকে কেউ কি বাড়িয়ে দেবেন সহমর্মিতার হাত? আমার আকুতি, আমি আর পারছি না। আমার স্বামীকে বাঁচাতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দেশের ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, বিত্তবান মানুষ কাছে সহযোগিতা চাই। কেউ পাশে দাঁড়ালে হয়তো আমার স্বামীকে চিকিৎসা করাতে পারব। নাসিমার এই দুর্দিনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত তার স্বজন ও প্রতিবেশীরাও।

নাসিমার দেবর শহিদুল ইসলাম বলেন, যে মানুষটা একসময় অন্যদের সাহায্য করত, আজ সেই মানুষটাকেই অন্যের সাহায্যের জন্য হাত বাড়াতে হচ্ছে। স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাদের সব শেষ হয়ে গেছে। সরকার ও বিত্তবানরা এগিয়ে এলে পরিবারটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, নাসিমারা নিজেরাই মানুষের পাশে দাঁড়াত। এখন স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাকেই মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে হচ্ছে। এটা খুবই নির্মম বাস্তবতা। আমরা চাই সরকার ও দেশের বিত্তবানরা তার পাশে দাঁড়ান।

ঝাঐল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল সরকার উজ্জ্বল বলেন, আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করি। নাসিমাও মানুষের সেবা করে। অথচ স্বামীর অসুস্থতার কারণে তার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সহযোগিতা করেছি। দেশের অন্য ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান ও বিত্তবানরা এগিয়ে এলে তার স্বামীর চিকিৎসা এবং সংসারটা চালানো সম্ভব হবে।

একই ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, নাসিমা স্বামীর চিকিৎসার জন্য অনেক আর্থিক সংকটে আছেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং আমরা তার পাশে আছি। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, যিনি নিজেই মানুষের সেবা করেন, তাকেই আজ অন্যের সহযোগিতার জন্য ঘুরতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নাসিমা তার দায়িত্ব যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেন। তার স্বামীর চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

পড়ুন : অপ্রতিম হত্যা: আটক তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার সেই আইফোন

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন