বিজ্ঞাপন

প্রকৃতির টানে পর্যটকের ঢল, গুলিয়াখালীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

বিজ্ঞাপন

প্রকৃতির টানে প্রতিদিনই পর্যটকের ভিড় বাড়ছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে। সবুজ ঘাসের প্রান্তর, আঁকাবাঁকা জোয়ার-ভাটার খাল আর বঙ্গোপসাগরের জলরাশি দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।

তবে পর্যটকের পদচারণার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট, ক্যানসহ নানা ধরনের অপচনশীল বর্জ্য। সৈকতের ঘাস, চরাঞ্চল ও আশপাশে ছড়িয়ে থাকা এসব বর্জ্যে মলিন হচ্ছে গুলিয়াখালীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

এ অবস্থায় গুলিয়াখালীর পরিবেশ রক্ষা ও পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গতকাল শনিবার দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন। ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’—স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বী।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চিকিৎসক কমল কদর, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ক্যাডেট, গ্রাম পুলিশ, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।

অভিযানে সৈকতের বিভিন্ন স্থান থেকে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, ক্যান, খাবারের প্যাকেটসহ বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি পর্যটকদের সচেতন করতে র‍্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে বড় ড্রাম ও ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। এসব ডাস্টবিনে ‘আমাকে ব্যবহার করুন’ এবং ‘আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন’—এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে প্লাস্টিকের ব্যানারের পরিবর্তে কর্মসূচিতে কাপড়ের ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ডাস্টবিনের পরিবর্তে পুরোনো প্লাস্টিকের ড্রাম পুনঃব্যবহার করে ডাস্টবিন হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া সৈকতসংলগ্ন চরাঞ্চলে গাছের চারা রোপণ করা হয়। একই সঙ্গে জোয়ারের সময় পানিতে না নামা, শিশুদের একা পানির কাছে যেতে না দেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলার বিষয়ে পর্যটকদের সতর্ক করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, গুলিয়াখালী সীতাকুণ্ডের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটকরা যেন যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য রাখেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুলিয়াখালী শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি সীতাকুণ্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

পড়ুন :অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেফতার, দ্রুত তদন্ত শেষে বিচার শুরু: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন