নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় বর্গাচাষের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কৃষক রফিকুল ইসলাম (৪০) হত্যার ঘটনায় আত্মগোপনে থাকা অন্যতম আসামিকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। রবিবারর (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এসআরবি-১৪ এর পক্ষ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম মো. আবুল মিয়া (২৯)। তিনি নিহত রফিকুলের আপন চাচাতো ভাই এবং এ হত্যা মামলার দুই নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
এসআরবি-১৪ (সিপিসি-২, সদর কোম্পানি) এর মিডিয়া অফিসার ও সহকারী পরিচালক জানান, এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এসআরবি-১ (সিপিএসসি, পোড়াবাড়ি)-এর যৌথ অংশগ্রহণে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানা এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকেই আত্মগোপনে থাকা আবুল মিয়াকে সফলভাবে গ্রেফতার করে আভিযানিক দলটি।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বারহাট্টা উপজেলার ছয়গাঁও গ্রামে বর্গাচাষের জমি সংক্রান্ত তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে কৃষক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার আপন চাচাতো ভাইদের বিরোধ দেখা দেয়।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রফিকুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে রফিকুল ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারান। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পর নিহতের ভাই মো. জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২৯ আগস্ট বারহাট্টা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজু হওয়ার পরপরই আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এসআরবি-১৪ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামি আবুল মিয়াকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জনস্বার্থে, অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এই বাহিনীটি।
পড়ুন :অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেফতার, দ্রুত তদন্ত শেষে বিচার শুরু: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সা/


