সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধের পরও সেই সম্পত্তিতে থাকা স্থাপনা অপসারণ না করার অভিযোগ উঠেছে। একই প্রকল্পের আওতায় অন্য অধিগ্রহণকৃত স্থাপনা অপসারণ করা হলেও একটি স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, উল্লাপাড়া উপজেলার ভট্টকাওয়াক মৌজার ৩২৪৯ দাগের ৪ দশমিক ৭৫ ডেসিমাল সম্পত্তির মালিক নবগ্রাম গ্রামের মৃত মাহমুদ আলী খানের ছেলে মো. আজিজুর রহমান খান ও তার স্ত্রী মোছা. হোসনেয়ারা পারভীন রুমি। উল্লাপাড়া ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ওই সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে সিরাজগঞ্জ জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখা (এলএ অফিস)।
২০২৩ সালের ১০ আগস্ট ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে দেওয়া এক নোটিশে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিত হয়ে অধিগ্রহণের টাকা বুঝে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশ অনুযায়ী, উৎসে কর ব্যতীত ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। ওই নোটিশে তৎকালীন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা এস এম রবিন স্বাক্ষর করেন।
এ ছাড়া গাছপালার ক্ষতিপূরণ বাবদ পৃথক নোটিশে উৎসে কর ব্যতীত আরও ১২ হাজার ৮৭৮ টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিগ্রহণের মাধ্যমে সরকার সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করলেও ২০২৬ সালেও ওই সম্পত্তির স্থাপনা অপসারণ করা হয়নি। বরং সেখানে এখনো বসতবাড়ি রয়েছে। অথচ একই প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণ করা অন্যান্য স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। ফলে সরকারি অর্থে সম্পত্তি অধিগ্রহণের পরও কেন ওই স্থাপনা বহাল রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উল্লাপাড়া ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রকল্পের প্রয়োজনে বিভিন্ন ব্যক্তির জমি, বসতবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের স্বার্থে অধিগ্রহণকৃত স্থাপনা অপসারণ বা উচ্ছেদ এবং মালামাল ক্রোক করা হলেও আজিজুর রহমান খান ও মোছা. হোসনেয়ারা পারভীন রুমির স্থাপনাটি দীর্ঘদিন পরও অপসারণ করা হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থাপনাটি যদি প্রকল্পের প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করা হয়ে থাকে, তাহলে অধিগ্রহণের পরও কেন তা অপসারণ করা হয়নি এবং একই প্রকল্পের অন্যান্য অধিগ্রহণকৃত স্থাপনার ক্ষেত্রে গৃহীত ব্যবস্থার সঙ্গে এ স্থাপনার ক্ষেত্রে ব্যত্যয়ের কারণ কী তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
তৎকালীন কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব, বৈষম্যমূলক আচরণ বা অন্য কোনো অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জমির মালিক মো. আজিজুর রহমান খান বলেন, আমি প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকার মতো পেয়েছি। সরকার জমি কিনে নিয়েছে। নতুন ইট উৎপাদন শুরু হলেই আমি এই বাড়ি ছেড়ে দেব।
জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা জমি অধিগ্রহণ শেষে এটি সওজকে বুঝিয়ে দিয়ে থাকি। সেই জমি যদি দখল হয় কিংবা মালিক ছাড়তে রাজি না হন, তখন সড়ক বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।
এবিষয়ে উল্লাপাড়া সড়ক বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. রিঠু মিয়া বলেন, সরকারের প্রয়োজন হলেই তো জমি অধিগ্রহণ করেন। আপনি একটু সার্ভেয়ার এর সাথে বলুন। তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন৷
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের সার্ভেয়ার মো. আকরাম হোসেন বলেন, এই বিষয়টি দেখে বলতে হবে। এলএ কেস নম্বর ও খতিয়ান নম্বর দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে কোনো সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধের পরও যদি সেই সম্পত্তির স্থাপনা বছরের পর বছর বহাল থাকে, তাহলে অধিগ্রহণের কার্যকারিতা ও প্রকল্পের কাজে ওই সম্পত্তি ব্যবহারের বিষয়ে প্রকৃত পরিস্থিতি কী তা তদন্ত করে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
পড়ুন : গোয়াইনঘাটে পরিত্যক্ত মর্টারশেলটি ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী


