কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনের প্রতিবাদে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন জেলার সাংবাদিকরা। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশে পুলিশ বাধা দিলে বাধা উপেক্ষা করে সাংবাদিকরা আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
এসময় সাংবাদিক নেতারা হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনের বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যালোচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারককে কুষ্টিয়া থেকে প্রত্যাহারের দাবিও তোলেন তারা।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ও জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খন্দকার আল মামুন সাগর বলেন, সাংবাদিক উল্লাস হামলার পর এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অথচ মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানোর পর জামিন দেওয়া হয়েছে। এতে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বিগত দিনের মতো মনে করে যদি কেউ ভাবেন যা খুশি তাই করবেন, সেটা ঠিক হবে না। আমরা এই ঘটনাকে কোনোভাবেই ছাড় দেব না। বিচারকের জামিনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট বিচারককে কুষ্টিয়া থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আদালত প্রাঙ্গণে আরও বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি গড়ে তোলা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়ে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানোর পর জামিন দেওয়া হয়েছে, যা সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, আমরা কথা বললেই আদালত অবমাননার কথা বলা হয়। কিন্তু কুষ্টিয়ার আদালতে কী হচ্ছে, সেটি নিয়েও তো প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকতে পারে। গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সংশ্লিষ্ট বিচারককে দ্রুত কুষ্টিয়া থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে সাংবাদিকদের নিয়ে শহরে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশ আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আবু বকর, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, বাংলাভিশন টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি হাসান অলী সহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
সাংবাদিক নেতারা বলছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক হামলার শিকার হলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে মামলার প্রতিটি ধাপ আইন অনুযায়ী পরিচালনার দাবি জানান তারা। সাংবাদিকদের দাবি, হামলার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচিতে ঘোষণা দিতে বাধ্য হবে।
এ সময় জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সাংবাদিকরা আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে সাংবাদিকরা আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন।
এদিকে, সাংবাদিক উল্লাসের ওপর হামলার মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ও সংসদ সদস্যের দেহরক্ষী পরিচয়দানকারী রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কুমারখালীর চড়াইকোল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে শনিবার গভীর রাতে নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলঙ্গী এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি আমিরুল ইসলাম ও মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হলে জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১টার দিকে কুমারখালী পৌরসভার কুন্ডুপাড়া কালীবাড়ী মোড় এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বাংলা টিভির কুমারখালী উপজেলা প্রতিনিধি মাহবুবুল আহসান উল্লাস। হামলার ঘটনায় শনিবার বিকেলে সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের ছেলে মো. শোভন হোসেন, ভাই মো. আনোয়ার হোসেন, দেহরক্ষী পরিচয়দানকারী রুহুল আমিনসহ অন্যদের নাম রয়েছে।
পড়ুন:জয়পুরহাটে ডিলারের সার পাচার, ধরে প্রশাসনকে দিল জনতা
ইমি/


