চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাবে পরিণত করতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে পোর্ট ইউজার্স ফোরাম। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরকেন্দ্রিক ব্যবসায়িক সমস্যা চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করবে সংগঠনটি।
দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম চেম্বারের নেতৃত্বে গঠিত পোর্ট ইউজার্স ফোরাম। নগরের আগ্রাবাদস্থ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে ফোরামের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরীকে ফোরামের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
সভায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি ফেডারেল সংগঠন হিসেবে পোর্ট ইউজার্স ফোরাম নতুন করে কার্যক্রম শুরু করছে। চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক সব সংগঠনকে নিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের অধীনে ফোরামটি পরিচালিত হবে। সদস্য সংগঠনগুলোর মধ্যে কোনো আন্তঃসংগঠন সমস্যা দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা হবে। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্মিলিতভাবে আলোচনা ও দরকষাকষি করা হবে।
তিনি দ্রুত ফোরামের কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংগঠন থেকে দুইজন করে সদস্যের নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লজিস্টিক ও বিনিয়োগ হাবে পরিণত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বন্দর, কাস্টমস ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরকেন্দ্রিক সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ীরা পোর্ট ইউজার্স ফোরামের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
তিনি বলেন, ব্যবসার খরচ কমানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। চট্টগ্রামের লজিস্টিক হাব কীভাবে গড়ে উঠবে ও পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদেরও ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশীয় ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি বিদেশি বিনিয়োগের পক্ষে মত দিয়ে বলেন, যেসব খাতে দেশীয় ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা রয়েছে, সেসব খাতে অগ্রাধিকার বজায় রেখে যেসব খাতে সক্ষমতা কম, সেখানে যৌথ অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আনা যেতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনাকারী দেশীয় উদ্যোক্তাদের বন্দরকেন্দ্রিক বেসরকারিকরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে বন্দর, কাস্টমসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকেন্দ্রিক সমস্যা সমাধান সহজ হবে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করতে হয়েছে। পোর্ট ইউজার্স ফোরামের মাধ্যমে এসব সমস্যা সম্মিলিতভাবে তুলে ধরা ও সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও অভিন্ন স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।
সভায় বিজিএমইএ’র পরিচালক মোঃ এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, চেম্বার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ গোলাম সরওয়ার, ক্যাপ্টেন মোঃ আলাউদ্দিন আল আজাদ, ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের কনভেনার হাজী মোঃ শফি, বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি খুরশিদ আলম, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ দিদারুল আলম ও ক্যাপ্টেন মোঃ সালা উদ্দিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
এ সময় চেম্বার পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও এ. এস. এম. ইসমাইল খান, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন, বিকেএমইএ’র পরিচালক ফৌজুল ইমরান খানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : ময়মনসিংহে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি পালিত


