বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যারা তারেক রহমানের ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করে, তারা বোকা: রনি

‘বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত নিরীহ ও শান্তিপ্রিয়। তারা স্বাভাবিকভাবে সাধারণ মানুষের মতো বসবাস করতে চায়। দেশে কোনো স্বৈরাচার কিংবা শামীম ওসমানের মতো কোনো গডফাদার বাহিনী দেখতে চায় না’—এমন মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি।

তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশকে সুন্দরভাবে পরিচালনার চেষ্টা করছেন। তার ভদ্রতা ও সহনশীলতাকে কেউ দুর্বলতা হিসেবে দেখলে সেটি তাদের ভুল হবে।
নারায়ণগঞ্জে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের ‘নৈরাজ্যের’ বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এসব কথা বলেন মশিউর রহমান রনি।

সমাবেশে মশিউর রহমান রনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত নিরীহ। তারা সাধারণ মানুষের মতো বাস করতে চায়। তাদের মধ্যে কোনো স্বৈরাচার থাকবে না, শামীম ওসমানের মতো কোনো গডফাদার বাহিনী থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর যারা দেশকে বহির্বিশ্বের কাছে বিক্রি করতে চেয়েছিলেন, সেই স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে ৫ আগস্ট দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে বাংলাদেশের মানুষ।’

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষ স্বৈরাচার থেকে মুক্তি চেয়েছে এবং পরিবর্তনের জন্য আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথাও তুলে ধরেন।

রনি বলেন, ‘এই স্বৈরাচার থেকে বাংলাদেশের মানুষকে যিনি রক্ষা করেছেন, তিনি আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশটাকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করতে চাচ্ছেন এবং পরিচালিত করছেন।’

সমাবেশে মশিউর রহমান রনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘এই সাধারণ মানুষের ঘুম হারাম করার জন্য একটি কুচক্রী মহল পটকা ফুটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।’

বিগত সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পুড়িয়ে, মানুষ মেরে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে দায় চাপিয়ে বিভিন্ন হামলা-মামলা দিয়ে তাদের দেশ থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল।’

তবে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সহজ-সরল হতে পারে, তবে এত বোকা নয়। মানুষ এটা বুঝে যে কীভাবে বাংলাদেশের মানচিত্রকে রক্ষা করতে হবে।’

এরপর ৫ আগস্টের ঘটনাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা বুঝতে পেরেই গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে ছোট ছোট বাচ্চারা দেশ থেকে বিতাড়িত করে।’

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে রনি বলেন, ‘ওই স্বৈরাচার নাকি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবে, যা শুনে ছোট ছোট বাচ্চারাও হাসে।’

সমাবেশে সংসদের বিরোধী দলের সমালোচনা করে মশিউর রহমান রনি বলেন, বর্তমানে যারা বিরোধী দলে রয়েছেন, তারা বিভিন্ন সময় তারেক রহমানের ভুল ধরার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ‘আরে, আপনারা তো নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন যে কীভাবে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে।’

তারেক রহমানের রাজনৈতিক আচরণ ও ভদ্রতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান যে ভদ্রতা দেখাচ্ছে, এটাকে যদি তারা দুর্বলতা মনে করে, তাহলে সাধারণ মানুষ মনে করবে তারা বোকাই। আসলেই তারা বোকা।’

রনি আরও বলেন, ‘তারা যদি চালাক হয়ে থাকেন, তাহলে তারা তারেক রহমানকে সাহায্য-সহযোগিতা করতেন।’

প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

মিছিলটি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। পরে সমাবেশে নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিএনপি ও যুবদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের বিষয়ে বক্তব্য দেন।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মসূচি পালন করে আসছে জেলা যুবদল। এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয় বলে আয়োজকরা জানান।

এদিকে সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে মশিউর রহমান রনি সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দলীয় নেতৃত্বের প্রতি নেতাকর্মীদের অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

তিনি তার বক্তব্যে একদিকে যেমন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন, অন্যদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

রনির বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—সাধারণ মানুষ যেন শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে এবং দেশে কোনো ধরনের স্বৈরাচারী শাসন কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য না থাকে।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : আঙিনায় খেলছিল ওনিয়, কিছুক্ষণ পরই পুকুরে মিলল নিথর দেহ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন