বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং দূরদর্শী সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যমান কাঠামোগত ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সব সমস্যা সমাধানে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান। তবে নিউ ইয়র্কে চলমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে কোনও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে কিনা, সে বিষয়ে তার কাছে এই মুহূর্তে কোনও তথ্য নেই বলে জানান তিনি।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে আমরা অতীতেও বলেছি যে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং দূরদর্শী সম্পর্ক চায়। আর আমাদের কাছে বর্তমানে যে কাঠামোগত ব্যবস্থা রয়েছে, তার মাধ্যমেই আমরা সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।
ভারতের গণমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করা হয়, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হতে যাওয়া পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের পদায়ন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ‘পুনরায় স্বাভাবিক ধারায় ফেরার’ ইঙ্গিত কি না।
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে আমরা আগেও বলেছি, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায়। আমাদের বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ভেতরে থেকেই আমরা সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। আমরা এই সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক উপায়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই।
ভারতে আয়োজিত আসন্ন বহুপাক্ষিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’তে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অংশগ্রহণ ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের উন্নতির লক্ষণ কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল আবারও বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চাই।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত যোধপুর বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আয়োজিত এই যৌথ মহড়ায় অংশ নেওয়া সাতটি বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যতম বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরে তিনি বেশ কয়েকটি বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন।
এদিকে চলতি মাসে বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। গত সপ্তাহে তিনি শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এরপর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্জীবিত করতে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। তবে, ভারতের চেষ্টার পরও দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেননি তারেক রহমান। এখন নয়াদিল্লির চাওয়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফর করেন।
পড়ুন : বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম


