বাংলাদেশের সাথে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য এবং মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ও সিতওয়ে নৌবন্দরের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে পুনরায় নৌ-যোগাযোগ চালুর বিষয়ে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমার প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মো।
আজ বিকেলে চট্টগ্রাম চেম্বার ও ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, মিয়ানমারের অন্যতম প্রতিবেশী দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে যে আলোচনা করেছেন তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে রাশিয়ার সহযোগিতায় একটি তরল গ্যাস কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে মিয়ানমার সরকার। যেহেতু বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে তাই উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার হলে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে সহজে তরল গ্যাসসহ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়নের জন্য দুই দেশের সরকারের সাথে সরকার এবং ব্যবসায়ীর সাথে ব্যবসায়ীর যোগাযোগ স্থাপনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, চাল, আদা, রাবার, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি এবং বাংলাদেশ থেকে ওষুধ শিল্প, রাসায়নিক ও পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য পণ্য আমদানির সুযোগ রয়েছে। তিনি ইয়াঙ্গুনের সাথে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের সরাসরি উড়োজাহাজ চলাচল চালুর ব্যাপারেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।
চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, মিয়ানমার প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ একটি দেশ। তাই সার্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ বাংলাদেশ তথা চট্টগ্রামের পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী হলো মিয়ানমার। তাই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল, সড়ক যোগাযোগ এবং সরাসরি উড়োজাহাজ চলাচল চালুর কোন বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম এই অঞ্চলের আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিমান বন্দরও পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের অন্যতম আকাশ যোগাযোগ কেন্দ্র হতে পারে। এছাড়া সরকারও চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকে নিয়ে আলাদা বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনসহ অন্যান্য অঞ্চলের উড়োজাহাজ যোগাযোগ জোরদার হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিকসহ বিশ্ব বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।
চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোঃ আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সক্ষমতা ও তুলনামূলক সুবিধাগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তিনি মিয়ানমারের কৃষি ও মৎস্য শিল্পে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের যৌথ বিনিয়োগে দুই দেশ লাভবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, পারস্পরিক আস্থা, উন্মুক্ত যোগাযোগ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতে নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য উভয় দেশের মধ্যে ভ্রমণ অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতা, নৌ-চুক্তি স্বাক্ষর এবং অর্থ বিনিময় জটিলতা দূর করতে রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান।
অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বারের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী আলী আহমেদ, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এম. এ. ছালাম, মিয়ানমার দূতাবাসের পরামর্শক হতেও মিয়াত লুইন, মিয়ানমার প্রজাতন্ত্রের সম্মানিত বাণিজ্য দূত এ.এইচ.এম. হাকিম আলী, চেম্বার পরিচালকবৃন্দ সহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
পড়ুন : জয়পুরহাট সীমান্তে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫১ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার


