ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে সরকারের চলমান উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিট বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের বিদ্যমান সম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব এবং আগামী দিনে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
বিশেষ করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিশ্বব্যাংকের কাঠামোর মধ্যে থেকে আরও কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা আরও বিস্তৃত করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচিতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।
এ ছাড়া বৈশ্বিক ও বহিরাগত বিভিন্ন ধাক্কায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া চাপ এবং তেল-গ্যাসের সরবরাহব্যবস্থায় সৃষ্ট সমস্যার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। এসব সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।
বহিরাগত এসব সংকটের কারণে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে ‘ক্রিটিক্যাল সাপোর্ট’ চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখবে বলে বিশ্বব্যাংক আশ্বস্ত করেছে।
বৈঠকে উপস্থিত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আলোচনার মধ্যে বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ইত্যাদিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি নিয়েছেন— এগুলো বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এগুলোতে বিশ্বব্যাংকের সমর্থন থাকবে। বিশেষ করে ইয়াং এন্টারপ্রেনারশিপের যেসব প্রোগ্রাম আছে, সেখানে আমরা বেশ কিছু প্রোগ্রাম রোলআউট করেছি। ৫০ শতাংশ গ্র্যান্ট ও ৫০ শতাংশ কনসেশনাল লোনে আগামী দিনে এই প্রোগ্রাম কীভাবে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে মিলে বড় আকারে করতে পারি তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইয়াং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট ও তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।
এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য আয়োজিত স্বাগত নাশতায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কেও অংশ নেন।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
পড়ুন : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
সা/


