রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল ও আশপাশের সড়কে যানজট নিরসন গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে মহাখালী বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন সড়কে এ কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানে ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
এ সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির খান উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান চলাকালে মহাখালী বাস টার্মিনালের বাইরে ও সড়কের ওপর অপেক্ষমাণ বাস সরিয়ে নেওয়া, নির্ধারিত স্থানে বাস পার্কিং সিরিয়াল অনুযায়ী বাস ছাড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে যাত্রী ওঠানামার সময় সড়কে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে চালক ও শ্রমিকদের সতর্ক করা হয়।
এ ছাড়া ফুটপাত ও পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে রাখা যানবাহনসহ সড়কে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন বিভিন্ন বিষয় সরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।
সম্প্রতি মহাখালী বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট কমাতে টার্মিনালে অলস গ্যাপের বাস না রেখে সেগুলো পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকার অস্থায়ী ডিপোতে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় ডিএমপির ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. তারেক জুবায়ের এ কার্যক্রমের কথা জানান।
‘মহাখালীকে যানজটমুক্ত রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে’
ডিএমপির ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. তারেক জুবায়ের বলেন, মহাখালীকে যানজটমুক্ত রাখতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নেতা ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। টার্মিনাল এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনালের গ্যাপের বাসগুলো পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এতে টার্মিনাল ও এর সামনের সড়কে অপ্রয়োজনীয় বাস দাঁড়িয়ে থাকার প্রবণতা কমবে। নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে বাস চলাচল করলে যানজট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
ডিসি তারেক জুবায়ের আরও বলেন, সড়কে যত্রতত্র বাস পার্কিং না করে নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালিক-শ্রমিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিটি বাসে ছোট আকারের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার বিষয়েও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না’
অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির খান।
তিনি বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনালের যানজট ও বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিনের সমস্যা। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে টার্মিনালে শৃঙ্খলা ফেরাতে শ্রমিক, মালিক ও পুলিশকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, রাস্তার ওপর বাস দাঁড়িয়ে থাকা, সিরিয়াল ভঙ্গ কিংবা যাত্রী ওঠানামার ক্ষেত্রে অনিয়মের কারণে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে শ্রমিকদের সচেতন করা হবে। প্রতিটি বাসকে নির্ধারিত নিয়ম ও সিরিয়াল মেনে চলতে হবে।
হুমায়ুন কবির খান আরও বলেন, বাসের অবৈধ পার্কিং, সিরিয়াল ভঙ্গ শ্রমিকদের অসদাচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। টার্মিনালের নির্ধারিত স্থান ছাড়া বাস পার্কিং না করার বিষয়ে শ্রমিকদের সচেতন করা হবে। পাশাপাশি বাসের সিরিয়াল ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মালিক-শ্রমিক-পুলিশের সমন্বয়ে ব্যবস্থাপনা
শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় প্রয়োজন। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি যাত্রীসেবা নিশ্চিত, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জনভোগান্তি কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করাই সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।
অভিযানে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্মকর্তারা জানান, মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা দীর্ঘসময় বাস অপেক্ষমাণ রাখার বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে।
নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টার্মিনালে শুধু চলাচলরত বাস রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাপের বাসগুলো পর্যায়ক্রমে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের এক মতবিনিময় সভায় এ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
আগের অবরোধের পর নতুন ব্যবস্থাপনা
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে পরিবহন শ্রমিকদের অবরোধের কারণে সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ওইদিন বিকেল থেকে শ্রমিকরা টার্মিনালের সামনের সড়কের দুই পাশে বাস রেখে অবরোধ করেন। পরে সন্ধ্যায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে যান চলাচল শুরু হলেও দীর্ঘ সময়ের যানজট স্বাভাবিক হতে সময় লাগে বলে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
এর পর থেকেই মহাখালী বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক বাসের পার্কিং, সিরিয়াল, যাত্রী ওঠানামা ও গ্যাপের বাস ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের উদ্যোগ জোরদার করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাখালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশি অভিযান নয়, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিয়মিত নজরদারি, নির্ধারিত স্থানে বাস পার্কিং এবং সিরিয়াল মেনে বাস চলাচল নিশ্চিত করা গেলে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে।
পড়ুন : মানবাধিকার সুরক্ষায় বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
সা/


