চট্টগ্রামের পটিয়ায় স্ত্রীকে মারধর, নির্যাতন, ভরণপোষণ না দেওয়া এবং স্ত্রী-সন্তানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রবাসফেরত স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামী, ভাসুর ও জাকে অভিযুক্ত করে পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রমা চৌধুরী (২৩) নামে এক নারী।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পটিয়া পৌরসদরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে নিজের ও চার বছর বয়সী কন্যাসন্তানের অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রমা চৌধুরী অভিযোগ করেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে সনাতন ধর্মীয় রীতিতে অভিযুক্ত স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের দুই মাস সাত দিন পর তাঁর স্বামী প্রবাসে চলে যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় মাঝেমধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও সংসারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বললে স্বামী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রমা চৌধুরী জানান, প্রায় তিন বছর ছয় মাস পর তাঁর স্বামী দেশে ফিরে আসেন। এরপর তিনি তাঁর বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন প্রমা। বিষয়টি জানতে পেরে সন্তান ও সংসারের কথা বিবেচনা করে স্বামীকে সঠিকভাবে চলার অনুরোধ করলে তিনি গালিগালাজ ও মারধর করেন বলে অভিযোগ তাঁর।
এ ছাড়া ভাসুর ও জায়ের প্ররোচনায় স্বামী বিভিন্ন সময় মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁকে অপমান ও মারধর করতেন বলেও অভিযোগ করেন প্রমা। একপর্যায়ে প্রায় ছয় মাস আগে তাঁকে মারধর করে বসতঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি তাঁর কন্যাসন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর থেকে তাঁর স্বামী তাঁকে ও সন্তানের কোনো ভরণপোষণ দেননি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে স্বামী তাঁকে ও সন্তানকে আর বাড়িতে ফিরিয়ে নেবেন না বলে জানান। এমনকি বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রমা আরও অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী নিজে আত্মহত্যা করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার হুমকিও দিয়েছেন।
তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তদের অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে আইনগত প্রতিকার চেয়ে পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। একই বিষয়ে হাইদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
হাইদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দীন জানান, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত পরিবারকে নোটিশ দিয়ে পরিষদে ডাকা হয়েছিল। তবে তারা পরিষদে উপস্থিত হয়নি।
পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুয়েল জানান, ওই নারীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের থানায় ডাকা হলেও তারা আসেননি। ভুক্তভোগী নারীকে আইনগত প্রতিকারের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিজের ও চার বছর বয়সী কন্যাসন্তানের কথা বিবেচনা করে স্বামীর সঙ্গে সংসার করার অধিকার ফিরে পেতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন প্রমা চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর বাবা সনজিৎ দাশ, মা সুকলা দাশ এবং তাঁর চার বছর বয়সী কন্যা বিপর্না চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পড়ুন : ফটিকছড়িতে পুকুরে পড়ে দুই চাচাতো বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু


