বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাভারে বাসে আগুনের ঘটনায় ক্র‍্যাবের সাবেক সভাপতিকে আসামি করে মামলা​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​​

ঢাকার সাভারে সম্প্রতি সড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র‍্যাব) সাবেক সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান খান ও পুড়ে যাওয়া বাসের মালিকসহ ৭০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত সোমবার রাতে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্বাস উদ্দিন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত সকলকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মী ও সংগঠনটির সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছ। মামলায় কামরুজ্জামান খানের রাজনৈতিক পরিচয় সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক উল্লেখ করে ১৮ নাম্বার আসামী করা হয়েছে এবং বাসটির মালিক হাবিবুর রহমান হৃদয়কে আওয়ামী লীগ সমর্থক উল্লেখ করে দুই নম্বর আসামী করা হয়েছে।

এজাহারে মামলার বাদি এসআই আব্বাস আলী অভিযোগ এনেছেন, গত সোমবার রাত ২টা ৪০ মিনিটে সাভারের রেডিও কলোনি ইউটার্নে অবস্থান করছিলেন তিন। স্থানীয়দের কাছ থেকে রেডিও কলোনি স্টাফ কোয়ার্টারের অদূরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে ছাত্রলীগের লোকজন জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে পেট্রোল বোমাসহ একটি বাসে আগুন দেওয়ার লক্ষ্যে জড়ো হয়েছেন বলে জানতে পারেন। ফোর্সসহ তিনি সেখানে গিয়ে দেখতে পান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নামে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ৬০-৭০ জন লোক একটি বাসে পেট্রোল বোমা মেরে অগ্নিসংযোগ করছেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অধিকাংশ আসামি মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে করে, অন্যান্য আসামিরা আশপাশের বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে চিনতে পারেন তিনি। আগুন নেভানোর জন্য দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভান। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি আসামিদের শনাক্ত করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় লোকজনদের নিকট জিজ্ঞাসাবাদে ও গোপন সূত্রে জানা যায়, জ্বলতে থাকা সাভার পরিবহনের মালিক আসামি হাবিবুর রহমান হৃদয় (২৫) একজন ছাত্রলীগ সমর্থক এবং আওয়ামী লীগের নেতা ঢাকা-১৯ (সাভার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। হাবিবুর রহমান অসৎ উদ্দেশ্যে তার সাভার পরিবহন বাসটির ইঞ্জিন ও গিয়ার বক্স ছাড়া রাস্তার পাশে ফুটপাতে পার্কিং করে রেখেছিলেন। হাবিবুর রহমান এবং মুরাদ জং এবং বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম মণ্ডলের নির্দেশে, সহায়তায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় অন্যান্য আসামিদের জড়ো করে বাসটিতে অগ্নিসংযোগ করেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার রাতেই সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের আকরাইন বাজার এলাকা থেকে সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহেল রানাকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে অগ্নিসংযোগের কথা স্বীকার করেছেন।

মামলায় সাক্ষী ছাত্রদল নেতা ও পুলিশ:

মামলায় তিন জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম সাক্ষী হিসেবে আকাশ নামে এক ব্যক্তির নাম লেখা হয়েছে। যুক্ত করা হয়েছে একটি ফোন নম্বর। তবে সেই ফোন নম্বরে কল দিয়ে আকাশকে পাওয়া যায়নি। ফোনটি ধরেন আরিফুল ইসলাম ঝলক নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয় দেন। মামলায় উল্লেখ করা ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‌‘আমি সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না।’
পরবর্তীতে আকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে ঝলক বলেন, ‘আকাশ ছাত্রদলের সাভার থানা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তবে তার ব্যক্তিগত কোনও ফোন নম্বর নেই। পরবর্তীতে তিনি তার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবেন বলে জানান। আকাশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কিনা এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই বলেও জানান। তার নম্বর কীভাবে আকাশের নামের সঙ্গে যুক্ত হলো এই বিষয়ে ঝলক বলেন, ‘আকাশ আমার সঙ্গেই থাকে বেশি, তাই দিতে পারে পুলিশ।’
মামলার অপর সাক্ষী মানিকের ফোন নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল ধরেননি। আর তৃতীয় সাক্ষী পুলিশের একজন কনস্টেবল।

এদিকে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্বেও মামলায় আসামি করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র‍্যাব) সাবেক সভাপতি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য ও ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামান খান।

এছাড়া ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ডিআরইউ ও ক্র্যাব।

সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে সাংবাদিকতা করছি। ২০০৩ সালের ডিসেম্বর থেকে আমি ঢাকায় অপরাধ বিষয়ক বিটে (ক্রাইম বিট) ভোরের কাগজে কাজ শুরু করি। দীর্ঘদিন ভোরের কাগজে ছিলাম। গত এক বছর আগে আমি ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব বাংলাদেশে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কাজ শুরু করেছি। পেশাগত জীবনে জাতীয় প্রেস ক্লাব, সাভার প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য। ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিটির বিভিন্ন দায়িত্বেও আমি ছিলাম।
তিনি বলেন, যেহেতু ঢাকায় কাজ করি তাই ঢাকাতেই অনেক বছর ধরে সেটেল্ড। নিজেকে পেশাদার সংবাদকর্মী বলে মনে করি। সাভারে আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার নাম ছিলো। কিন্তু আমি কখনোই সক্রিয় ছিলাম না। সাভারের সাংবাদিক সহকর্মীদের কাছ থেকে মামলাতে আমার নাম রয়েছে জানতে পেরে হতভম্ভ, হতবাক হয়েছি।

যা বলছেন স্থানীয়রা—-

আজ দুপুরে গঠনাস্থল পরিদর্শন করে ওই রাতে বাস পোড়ানোর ঘটনাটি জানতে দুই জন বাস মালিক এক জন দোকানদার সহ অন্ত পাঁচ জন ব্যাক্তির সাথে কথা বলেছে এই প্রতিবেদক।

তারা প্রত্যেকেই বাসের মালিক হৃদয়ের নামে মামলা দেওয়ায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। হৃদয় কিংবা হৃদয়ের পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছ্যুক দুইজন বাস মালিক বলেন, সন্ধ্যা ঢাকায় বাসে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে আমরা আমাদের গাড়ি গুলো মহাসড়কের পাশে রেডিও কলোনী পাম্পে গেসে রেখে দেই। ওখানে বাসগুলো পাহারায় আমাদের নাইটগাট ছিলো। কিন্ত হৃদয়ের বাসটি ছিলো পাম্পের অপরপাশে কিছুটা দূরে। বাসের ইন্জিনটি মেরামতের জন্য মেকানিকের দোকানে দেওয়ায়। সেটি ওই খানে আনা যায়নি। রাতে ৩টার দিকে পাম্প থেকে ফোন দেওয়া হয় বাসে আগুন লেগেছে৷ পরে দৌড়ে এসে দেখি হৃদয়ের গাড়ীতে আগুন জ্বলছে। ওখানে পুলিশ উপস্তিত ছিলো। পরে ফায়ারসার্ভিসকে ফোন করা হয়। ফায়ারসার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বসাটি মিছিল করে আগুন দেওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগুন নেভানোর পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতিতে ওখানে আলোচনা হচ্ছিল একজন লোক বাসটিতে আগন দিয়েছে। বাসটি সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে আগুন দেওয়া হয়নি।

বাসের মালিক হাবিবুর রহমান হৃদয়ের মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

তবে হাবিবুরের বাবা আলী আকবর বলেন, তার ছেলে কিংবা তার পরিবারের সদস্যরা কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত নয়। আমার ছেলের বাস পরেছে আবার আমার ছলের নামেই মামলা দেওয়া হয়েছে। এটা পুলিশ উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে আমাদের হয়রানি জন্য পুলিশ আমার ছেলেকে মামলায় নাম জড়িয়েছে। এর প্রতিবাদ কে করবে। গাড়ীটিতে আগুন দিয়েছে কারা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাড়িটির ইন্জিন মেরামতের জন্য নামানো হয়েছে। তাই গাড়ির বডিটি রাস্তার পাসে রাখা হয়েছিল। ওই সময়তো আমাদের কেউ গাড়ির কাছে ছিলো না। কিভাবে পুড়েছে বলতে পারছিনা।

সাভার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাত তিনটার দিকে একজন লোক আমাদের ফোন দেন বাসে রেডিও কলোনি এলাকায় একটি বাসে আগুন জ্বলছে। ওই খবরের ভিত্তিতে ওখানে গিয়ে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। আমাদের ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই পুলিশ ওখানে উপস্থিত ছিলো। তাৎক্ষণিক বাসে আগুনের কারন আমরা জানতে পারিনি।


পুলিশের বক্তব্য:

বক্তব্য জানতে মামলার বাদি এসআই আব্বাস আলীর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি নিজে কোনও মন্তব্য করবেনা জানিয়ে সাভার থানার ওসির সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

যোগাযোগ করা হলে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ ২০-৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে।

সাংবাদিকে কামরুজ্জামান ও বাসের মালিক হৃদয়কে কেন আসামি করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাসের মালিকের পুরো পরিবার আওয়ামী সমর্থক ও সাবেক এমপি মূরাদ জংয়ের ঘনিষ্ঠ জন।সে বাসটি ওখানে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে রেখেছিলো এটাই প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে তাই তাকে মামলায় আসামী করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে কামরুজ্জামান খানের নাম আসায় তাকে আসামি করা হয়েছে। কামরুজ্জামান খানের আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পদ রয়েছে। তারপরও পরবর্তী তদন্তে যদি দেখা যায় আসামিদের মধ্য কেউ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না তাদের মামলা থেকে অবশ্যই অব্যাহতি দেওয়া হবে।

প্রথমে আপনি বলেছিলেন রাতের আধারে কেউ মামলা বাসটিতে আগুন দিয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে ওসি বলেন, আমাদের ধারনা ছিলো হিরোইচিরা বাসটিতে আগুন দিয়েছে। পরবর্তীতে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায় বাসটিতে পরিকল্পিত আগুন লাগানো হয়েছে।

ডিআরইউ বিবৃতিতে নিন্দা ও প্রতিবাদ:

গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, কামরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে করা মামলায় তাকে ১৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে ডিআরইউ নেতারা বলেন, মামলার এজাহারে কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তার কথিত সম্পৃক্ততার বিষয়ে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কোনো সাংবাদিককে হয়রানি বা পেশাগতভাবে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে মামলা ব্যবহার করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক।

তারা আরও জানান, কামরুজ্জামান খান দীর্ঘদিন ধরে সাভারে বসবাস করেন না। এ অবস্থায় সাভারে সংঘটিত একটি ঘটনায় তাকে আসামি করার বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়া হয়রানিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তারা আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : পিরোজপুরে ১৩ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়িসহ তিনজন আটক

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন