সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় একই থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসানের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেন।
এদিন রাতে তাকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক এ বি এম আবদুল্লাহ আল সাকিব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিও ভাইরালের ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বৃহস্পতিবার।
এর আগে অডিও ভাইরালের ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনারের সই করা এক অফিস আদেশে রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করে সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানের একটি অডিও ভাইরাল হয়। ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও রেকর্ডে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাকিবুল ইসলামের কথোপকথন শোনা যায়।
যদিও ওই অডিওটি নিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে সাবেক এই ওসি দাবি করেছিলেন, ভাইরাল হওয়া অডিওটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
অডিওতে শোনা যায়, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলে এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না। সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করতেছে। আমরা তো বিএনপি করতেছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসিনি। তোমরা খাবা-দাবা, আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করব, তা তো হবে না।’
মনির নামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার গাড়িচালক থানার ওসি পদায়ন করছেন বলেও অডিওতে অভিযোগ করা হয়। রাকিবুলকে বলতে শোনা যায়, এগুলো সহ্য করা যায়? আর কী বলব? যারা পোস্টিং পাইতেছে, তার (মনির) কাছে টাকা দিচ্ছে, সকাল বেলা পোস্টিং হইতেছে। ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে অডিওর বক্তা বলেন, তার লজ্জা থাকা উচিত। তার চাকরি ছিল না। এখন যে পদে আছেন, সেখানে এক বছর থাকতে পারলে ১০০ কোটি টাকা এমনিতেই হবে।
ওসি পদায়ন নিয়ে অডিওতে ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কমিশনার যারা ছিল, তারা ওসি পোস্টিংয়ে টাকা নেয়নি। যত ওসি বেনজীরের আমলে ছিল, টাকায় কোনো সময় বদলি হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কীভাবে কাজ করে দিয়েছেন, সে অভিজ্ঞতার বিষয়ে ওসি রাকিবুলকে বলতে শোনা যায়, আমি ভাটারায় একটা কাজ করে দিছি এক স্যারকে। স্যার ১ কোটি টাকা নিছে। আমি তো জানতাম না।…(অস্পষ্ট কথা) আমার সঙ্গে শুধু সম্পর্কটা আছে। এই হলো অবস্থা! এভাবে চাকরি করা যাবে নাকি? অযোগ্য লোকগুলোরে কোনো জায়গা ঢুকায় (পদায়ন দেয়) আর যোগ্য লোকগুলোকে চিপা-চাপায় রাখছে।
পড়ুন : নাটোরে ১০৬ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার


