ভারতের কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের স্মরণে স্মৃতিচারণ ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে। আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ মজুমদার স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ স্মরণসভার অয়োজক ছিল কুমারখালী প্রেসক্লাব।
এই স্মরণসভায় দেবাশীষ দত্তের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত ও তাঁর ছয় বছরের কন্যা মহিমা দত্ত উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আরও আবেগঘন।
সভায় স্মৃতিচারণ করে বক্তারা বলেন, দেবাশীষ দত্ত ছিলেন একজন দায়িত্বশীল, আন্তরিক ও মানবিক সাংবাদিক। সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক সম্পর্ক। মানুষের কথা, এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনদুর্ভোগ তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরতেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান ও সাহসী।
বক্তারা আরও বলেন, কর্মনিষ্ঠা, মানবিকতা ও সদালাপী আচরণের কারণে দেবাশীষ দত্ত অল্প সময়েই সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে আপন হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যু সাংবাদিক সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। একই সঙ্গে তাঁর পরিবার হারিয়েছে একজন প্রিয় স্বজনকে, যার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। পরে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে কুমারখালী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক বকুল চৌধুরী, সভাপতি লিপু খন্দকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহমুদ শরীফ, সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মাহমুদ, দৈনিক মানবজমিনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি এ জে সুজন, কুষ্টিয়া বার্তার সম্পাদক লাল্টু আহম্মেদ, নির্বাহী সম্পাদক আকরামুজ্জামান আরিফ, দৈনিক আজকের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৌরভ হোসেন, হিন্দু বৌদ্ধ পরিষদের নিতাই কুমার কুন্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমারখালী পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ কুমার বিশ্বাস, ফ্যামিলি কেয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুজয় চাকীসহ প্রেসক্লাবের সদস্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণসভা শেষে কুমারখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি লিপু খন্দকার প্রয়াত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত ও তাঁর কন্যা মহিমা দত্তের হাতে আর্থিক সহযোগিতার চেক তুলে দেন। এ সময় সাংবাদিক ও অতিথিরা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং যেকোনো প্রয়োজনে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, দেবাশীষ দত্ত দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৯ আগস্ট ভোররাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে অবস্থিত ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তিনি সপরিবারে নিহত হন।
পড়ুন : জয়পুরহাটে শুরু হলো জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল


