বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বার জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পরও ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না ইতালি। নতুন করে রবার্তো মানচিনির দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচেই পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ঘরের মাঠে নেশনস লিগের ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে আজ্জুরিরা।
শুক্রবার রাতে রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে দুই দল। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। প্রথমার্ধে একটি গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে সফরকারীরা।
এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে প্রায় তিন বছর পর ইতালির ডাগআউটে ফিরেছেন রবার্তো মানচিনি। ২০২৩ সালে ইতালির দায়িত্ব ছাড়ার পর আবারও জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ফিরলেও প্রত্যাবর্তনটা জয় দিয়ে রাঙাতে পারেননি তিনি। বরং দলের দুর্বলতা ও গোল করার ব্যর্থতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।
বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বার জায়গা করে নিতে না পারার হতাশার পর এই ম্যাচকে ইতালির ঘুরে দাঁড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। মার্চে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে প্লে-অফে হারের পর এটিই ছিল ইতালির প্রথম ম্যাচ। ফলে নতুনভাবে দলকে সাজিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল মানচিনির সামনে।
তবে ম্যাচের শুরু থেকেই সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি। রোমের ৭০ হাজার আসনের স্তাদিও অলিম্পিকোতে উপস্থিত ছিলেন ৪৭ হাজার ১৫৫ দর্শক। নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেললেও ইতালি আক্রমণে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি।
ম্যাচের ২০তম মিনিটে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। কেভিন ডি ব্রুইনের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিন ইতালিয়ান ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান মিকা গডটস। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল গডটসের প্রথম গোল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও বেলজিয়ামের হাতে তুলে দেন তিনি।
গোল হজমের পর সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে ইতালি। মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করলেও বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে ইতালি। কিন্তু বেলজিয়ামের রক্ষণ ও মাঝমাঠের সমন্বিত খেলার কারণে স্বাগতিকদের আক্রমণ কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে পারেনি।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ইতালির বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন দোদি লুকেবাকিও। বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে ইতালির গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। তাকে থামানোর জন্য ছুটে এসেছিলেন ইতালির মিডফিল্ডার সান্দ্রো টোনালি। তবে তার প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
দুই গোল হজম করার পরও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় ইতালি। কিন্তু আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা বেলজিয়ামের রক্ষণে বড় কোনো সমস্যা তৈরি করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।
পরাজয়ের পর ইতালির খেলোয়াড়দের দুয়োধ্বনি দিয়ে মাঠ ছাড়েন সমর্থকেরা। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের হারানো অবস্থান ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করা ইতালির জন্য এমন ফল নতুন করে হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের দুয়োধ্বনি নিয়ে রবার্তো মানচিনি বলেন, দল হারলে কেউই খুশি থাকে না। হারলে সমর্থকদের কাছ থেকে দুয়োধ্বনি শুনতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্যে ম্যাচের ফল নিয়ে হতাশার পাশাপাশি দলের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে বেলজিয়ামের জন্য ম্যাচটি ছিল নতুন কোচ মার্ক ফন বোমেলের অধীনে দারুণ এক সূচনা। বিশ্বকাপের পর রুডি গার্সিয়া দায়িত্ব ছাড়ার পর বেলজিয়ামের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক নেদারল্যান্ডস মিডফিল্ডার ফন বোমেল। জাতীয় দলের ডাগআউটে তার অভিষেকই হলো জয় দিয়ে।
বেলজিয়ামের জয় শুধু নতুন কোচের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে না, দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও নতুন উদ্যম তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মিকা গডটসের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল এবং লুকেবাকিওর দ্বিতীয় গোল দলের আক্রমণভাগের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
তবে ইতালির সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ খুব বেশি দূরে নয়। বেলজিয়ামের বিপক্ষে হারের পর আগামী সোমবার তুরস্কের মাঠে খেলবে আজ্জুরিরা। এরপর পরের শুক্রবার ফ্রান্সের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে মাঠে নামতে হবে তাদের।
নেশনস লিগের প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে আবার তুরস্কের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলবে ইতালি। ফলে পরবর্তী কয়েকটি ম্যাচেই দলের নতুন পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা বোঝা যাবে।
বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বার জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইতালিয়ান ফুটবলে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, সেটি কাটাতে নতুন করে পথ খুঁজতে হচ্ছে দলটিকে। মানচিনির প্রত্যাবর্তনও আপাতত সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বেলজিয়ামের বিপক্ষে হার তাই শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং ইতালির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোরও আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল।
পড়ুন:ফিফা আসিয়ান কাপ : মালয়েশিয়ার কাছে বড় হারে শুরু বাংলাদেশের
ইমি/


