বন্ধুকে মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাড়ে ৫ লাখ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ লাখ ৬ হাজার টাকা) আদায়ের অভিযোগে ভারতের ছোটপর্দার অভিনেত্রী বর্ষিণী ভেঙ্কটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (তারিখ) চেন্নাইয়ের মাইলাপোর এলাকা থেকে ২৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
পুলিশের অভিযোগ, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অর্থ বিনিয়োগে রাজি না হওয়ায় শেয়ারবাজারের এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে অর্থ আদায় করেন বর্ষিণী ও তার কয়েকজন সহযোগী। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে সঞ্জয় নামের এক ব্যক্তিকে প্রধান সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারী।
পুলিশ ও মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগকারী থারুন পেশায় শেয়ারবাজারের ব্যবসায়ী। বর্ষিণী ভেঙ্কট, তার বন্ধু সঞ্জয়সহ কয়েকজন মিলে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছিলেন। চলচ্চিত্রটি নির্মাণের জন্য তারা থারুনকে অর্থ বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। তবে ওই প্রস্তাবে রাজি হননি তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ আগস্ট ভোরে বাইরে থেকে নিজের লজে ফিরে যান থারুন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বর্ষিণী, সঞ্জয়সহ আরও দুজন অবস্থান করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় তারা থারুনকে মারধর করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার রুপি নগদ নিয়ে নেন।
এরপরও পরিস্থিতি থামেনি বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন থারুন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর সঞ্জয়ের কাছ থেকে ফোনে নিয়মিত হুমকি আসতে থাকে। তাকে আরও অর্থ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভয়ে তিনি বর্ষিণী ভেঙ্কটের ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ রুপি এবং সঞ্জয়ের ব্যাংক হিসাবে আরও ২ লাখ রুপি পাঠান।
অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নগদ ৫০ হাজার রুপি এবং ব্যাংক হিসাবে পাঠানো ৫ লাখ রুপি মিলিয়ে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই অর্থ পাওয়ার পরও সঞ্জয় আরও ২৭ লাখ রুপি দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন থারুন। অতিরিক্ত অর্থ না দিলে তাকে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও পুলিশের কাছে দাবি করেন তিনি।
পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন থারুন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে চেন্নাইয়ের গিন্ডি থানায় মামলা করা হয়। পরে তদন্তে নামে পুলিশ।
তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগকারীর ব্যাংক লেনদেন খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। সেখানে বর্ষিণী ভেঙ্কটের ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ রুপি স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। একইভাবে সঞ্জয়ের ব্যাংক হিসাবেও অর্থ পাঠানোর তথ্য তদন্তে উঠে আসে। ব্যাংক লেনদেনের এসব তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত এগিয়ে নেয় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মাইলাপোরের বাসিন্দা বর্ষিণী ভেঙ্কটকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি আইফোন জব্দ করা হয়েছে। ওই ফোনটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ফোনের কল রেকর্ড, যোগাযোগের তথ্য এবং অন্যান্য উপাত্তও যাচাই করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের পর বর্ষিণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠান।
এদিকে, মামলায় বর্ষিণীর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা সঞ্জয়সহ অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তারা কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযোগকারীকে মারধর, অর্থ আদায় এবং পরবর্তী সময়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ব্যাংক লেনদেনের পাশাপাশি ঘটনার সময়কার অন্যান্য তথ্য-প্রমাণও সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য, অভিযুক্তদের সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় রয়েছে।
বর্ষিণী ভেঙ্কট ভারতীয় ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। গ্রেপ্তার ও বিচারিক হেফাজতে পাঠানো কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ ও পটভূমি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগকারীকে আদৌ পরিকল্পিতভাবে অর্থ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিরোধ কীভাবে অর্থ আদায়ের ঘটনায় রূপ নেয়, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পড়ুন:চাঁদা না দেওয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-লুটপাট
ইমি/


