বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চাঁদা না দেওয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-লুটপাট

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা স্টুডিওর সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। এ সময় স্টুডিওর বিভিন্ন জিনিসপত্রও ভাঙচুর করে তছনছ করা হয়।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে ইসিবি চত্বরে একটি অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে ছোরাসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সালমান মুক্তাদির অভিযোগ করেন, বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিশোধ হিসেবে তার স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।

ঘটনার সময় ঢাকায় ছিলেন না সালমান মুক্তাদির। পরে খবর পেয়ে বিমানে ঢাকা এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় ফেসবুক লাইভে স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। তার দাবি, হামলায় দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃজনশীল কাজের জায়গাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় তিনি থেমে যাবেন না বলেও জানান।

স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক হঠাৎ স্টুডিওতে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। পরে হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, স্টুডিওতে থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে হামলায় স্টুডিওর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আহত হননি বলে জানা গেছে।

স্টুডিও ভাঙচুরে বড় ক্ষতির দাবি সালমান মুক্তাদিরের

ফেসবুক লাইভে সালমান মুক্তাদির জানান, তার স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের ফুটেজ, সরঞ্জামসহ নানা কাজের উপকরণ রাখা ছিল। এসব নিয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে বলে জানান তিনি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারেননি।

সালমান বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে একটা মামলা করতে হবে, ফরমালিটির জন্য। ক্লায়েন্টদের ডেলিভারি ধরলে, ওরা তো ওদের জিনিসপত্র এখানে রেখে গেছে। ওদের বিভিন্ন ফুটেজ থেকে শুরু করে অনেকগুলো শুট এখানে করা হয়। একটা শুটে কত খরচ, সেটা আপনারা জানেন। সেখানে ৩০-৪০টা ক্লায়েন্ট যখন সবকিছু নিয়ে যায়, কত ক্ষতি হতে পারে—এটা চোখ বন্ধ করেও একটা ধারণা করা যায়।’

তবে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব এখনও পরিষ্কার না হওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক বলতে চাননি তিনি।

অন্য একটি ফেসবুক লাইভে ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্টুডিও দেখিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তার দাবি, বাংলাদেশে সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও খুব কম ছিল। হামলায় সেটি ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেন সালমান মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?’ তবে তার এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ফেসবুক লাইভে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আশ্বস্ত করে সালমান মুক্তাদিরকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’ হামলার পর কর্মীরা ভেঙে পড়লেও তাদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় তাকে।

তিনি জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তার সঙ্গে কাজ করা অনেক তরুণ-তরুণীকে ভাই-বোনের মতো পেয়েছেন। স্টুডিওটি তাদের কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কাজের জায়গা হয়ে উঠেছিল। হামলার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান তিনি।

সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’

হামলার ঘটনায় নিজের স্ত্রী, সহকর্মী এবং স্টুডিও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, স্টুডিও নির্মাণের সময় তার স্ত্রী প্রতিদিন সেখানে এসে কাজ তদারকি করতেন। সহকর্মীদের অনেকে রাত জেগে নিরাপত্তার কাজও করেছেন।

সালমান মুক্তাদির আরও বলেন, এ ঘটনায় ভয় পেয়ে তিনি সৃজনশীল কাজ বন্ধ করবেন না। তার ভাষায়, ‘আমি এর থেকে বড় কিছু করব।’ একই সঙ্গে কর্মীদের স্বাভাবিক হয়ে আবার কাজে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।

ফেসবুক লাইভে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘এই ভিডিওটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বানাচ্ছি। বাংলাদেশে এটা খুবই স্বাভাবিক। এ দেশে কেউ কোনো দলের তোষামোদি না করলে তার নিরাপত্তা অনিশ্চিত।’

আরেক ভিডিওতে বিএনপির কর্মীদের উদ্দেশ করে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘চাঁদাবাজি করো আর যাই করো, তোমাদের অবস্থান এটুকুই থাকবে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সাধ্য তোমাদের নাই।’

হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে মামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে কি না, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে হামলায় কারা জড়িত ছিল এবং কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

পড়ুন : রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ৪

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন