দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সরব এই অভিনেত্রী। কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে নিজের নানা মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিয়মিত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি। কখনো শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা, কখনো প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর দৃশ্য, আবার কখনো একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত—বিভিন্ন সময়ের নানা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে।
তবে জয়ার নতুন ছবি প্রকাশ পেলেই যেন নতুন করে আলোচনায় আসে তার রূপ ও লাবণ্য। বয়সের হিসাবকে অনেকটাই যেন ছাপিয়ে গেছে তার উপস্থিতি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দর্শকের কাছে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী এবারও নিজের মিষ্টি হাসি ও স্নিগ্ধ সৌন্দর্যে ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছেন জয়া আহসান। ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই তা নজর কেড়েছে ভক্ত ও নেটিজেনদের। ছবিতে স্নিগ্ধ গোলাপি রঙের পোশাকে ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে অভিনেত্রীকে। একটি টেবিলের সামনে বসে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসিতে ধরা দিয়েছেন তিনি। তার স্বাভাবিক ও সাবলীল অভিব্যক্তিই ছবিগুলোর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
ছবির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনেও নিজের স্বভাবসুলভ সরলতার পরিচয় দিয়েছেন জয়া। লিখেছেন, ‘আ স্মাইল আই ডিডন্ট প্ল্যান’। বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায়—‘যে হাসির কোনো পরিকল্পনা করিনি।’ অর্থাৎ কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই কিংবা নিজের অজান্তে ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠা হাসির মুহূর্তকেই ছবির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।
জয়ার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন তার ভক্তরাও। মন্তব্যের ঘরে এক ভক্ত লিখেছেন, ‘ঠিকই বলেছেন, হাসতে অন্তত প্ল্যান করতে হয় না।’ এমন নানা মন্তব্যে ভরে উঠেছে অভিনেত্রীর পোস্টের মন্তব্যের ঘর।
তবে জয়ার মিষ্টি হাসির পাশাপাশি তার চেহারার তারুণ্যও ছিল নেটিজেনদের আলোচনার অন্যতম বিষয়। ছবিগুলো প্রকাশের পর অনেকেই অভিনেত্রীর এভারগ্রিন লুকের প্রশংসা করেছেন। কারও কারও মন্তব্য, বয়স যেন জয়ার সৌন্দর্যে কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘চল্লিশের জয়া যেন ১৮তে নেমে এসেছেন।’ আবার কেউ কেউ মজা করে তাকে ‘তিন পুরুষের ক্রাশ’ বলেও অভিহিত করেছেন।
জয়ার ক্ষেত্রে এমন প্রশংসা অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব ও সৌন্দর্যের কারণে দর্শকের আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। দুই বাংলার চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করার কারণে দুই দেশের দর্শকের কাছেই তিনি পরিচিত মুখ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়ার উপস্থিতিও বেশ বৈচিত্র্যময়। অভিনয় ও শুটিংয়ের বাইরেও নিজের অবসর সময়ের নানা বিষয় তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে বাগান করা ও গাছপালার যত্ন নেওয়ার প্রতি তার আগ্রহের কথা বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। বাড়িতে অবসর পেলেই গাছ-গাছালির পরিচর্যায় সময় কাটান অভিনেত্রী। পোষ্যদের সঙ্গেও তার সময় কাটে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়।
কাজের ক্ষেত্রেও বর্তমানে দুই বাংলাতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন জয়া আহসান। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ভারতীয় বাংলা সিনেমাতেও তার উপস্থিতি নিয়মিত। অভিনয়ের মাধ্যমে দুই বাংলার দর্শকের মধ্যে যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন, নতুন কাজের খবর এলেই তার প্রমাণ মেলে।
অভিনেত্রীকে সর্বশেষ দেখা গেছে ভারতীয় নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলির সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’তে। কিছুদিন আগে ভারতে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। মুক্তির পর সিনেমাটি দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে। ছবিতে জয়ার অভিনয়ও আলোচনায় এসেছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত জীবনযাপন, পোশাক, সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের বিভিন্ন মুহূর্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই আলোচনায় থাকেন জয়া। তবে নতুন ছবিতে এবার তার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নয়, বরং একেবারে স্বাভাবিক একটি হাসি।
পরিকল্পনা ছাড়াই তোলা সেই হাসির ছবিই যেন আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, পর্দার বাইরেও জয়া আহসানের স্বাভাবিক উপস্থিতি ভক্তদের কাছে কতটা আকর্ষণীয়। গোলাপি পোশাক, স্নিগ্ধ অভিব্যক্তি আর ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা মিষ্টি হাসিতে নতুন করে প্রশংসায় ভাসছেন দুই বাংলার এই অভিনেত্রী।
পড়ুন:চাঁদা না দেওয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-লুটপাট
ইমি/


