বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উঠান থেকে নিখোঁজ, পুকুরে ভাসছিল ১৬ মাসের শিশুর নিথর দেহ

রবিবারের দুপুরটা অন্য সব সাধারণ দিনের মতোই শুরু হয়েছিল নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামে। বাড়ির উঠানে আপন মনে খেলছিল ১৬ মাস বয়সী ফুটফুটে শিশু আমির হামজা ওরফে তাসকিন। মা তখন সংসারের দৈনন্দিন কাজকর্মে কিছুটা ব্যস্ত। এই সামান্য সময়ের অসতর্কতাই যে সারা জীবনের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি কেউ। চোখের পলকেই উঠান থেকে নিখোঁজ হওয়া ছোট্ট তাসকিনের নিথর দেহ মিলল বাড়ির পাশের পুকুরে। এক নিমেষেই যেন স্তব্ধ হয়ে গেল পুরো গ্রাম, নেমে এল শোকের ঘন ছায়া।

বিজ্ঞাপন

নিহত শিশু আমির হামজা (তাসকিন) পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শহীদ মিয়ার ছেলে। মাত্র ১৬ মাস বয়সেই এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার আকাশ-বাতাস।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিশু তাসকিনকে বাড়ির উঠানে রেখে মা নিজের সাংসারিক কাজে মন দিয়েছিলেন। শিশুটি খেলতে খেলতে সবার অজান্তেই বাড়ির পাশের পুকুরের দিকে চলে যায়। শিশুটির মা কাজ শেষে ছেলেকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তবে তখনও কেউ বুঝতে পারেনি কত বড় সর্বনাশ ঘটে গেছে।

দুপুর গড়িয়ে তখন প্রায় পৌনে দুইটা। জোহরের নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে ফিরছিলেন শিশুটির চাচাতো ভাই মাহফুজুল হক। বেলা ১টা ৫০ মিনিটের দিকে হঠাৎ তার চোখ আটকে যায় বাড়ির পাশের পুকুরে। তিনি দেখতে পান, পুকুরের পানিতে ভাসছে ছোট্ট তাসকিনের নিথর দেহ। তার চিৎকারে ছুটে আসেন পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা।

দ্রুতগতিতে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। চিকিৎসকরা সাধ্যমতো চেষ্টা করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশু তাসকিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিবারের অসতর্কতায় শিশুটি পানিতে পড়ে যায় বলে তারা জেনেছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ধরনের ঘটনা সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

হাসিখুশি শিশুর এমন আকস্মিক বিদায়ে ওই এলাকায় এখন শুধুই বিষাদের সুর। বাড়ির উঠানে পড়ে থাকা তাসকিনের খেলনাগুলো যেন নির্বাক হয়ে খুঁজছে তাদের ছোট্ট সঙ্গীকে। শিশু সুরক্ষায় এবং জলাশয়ের আশেপাশে শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা যেন আরও একবার গভীরভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল হৃদয়বিদারক ঘটনা।

পড়ুন : রাজশাহী অঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৬৫৯২ জন, মৃত্যু ১৬ জন

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন