বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফটিকছড়িতে ৭ ইসলামি দলের বৈঠক: চূড়ান্ত হয়নি ঐক্য, পরবর্তী বৈঠক ঢাকায়

কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি রাজনৈতিক দলের ঐক্যের খসড়া রূপরেখা চূড়ান্ত হয়নি। ঐক্যের কাঠামো, সমন্বিত কর্মপদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে আলোচনা হলেও বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দলগুলো।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাত দলের ৩৫ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।

বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত হয়, ঐক্যের প্রস্তাবগুলো নিয়ে আরও আলোচনা ও সমন্বয়ের জন্য সাত দল থেকে তিনজন করে সদস্য নিয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান। আগামী ২২ অক্টোবর ঢাকায় কমিটির পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুফতি জসীমউদ্দিন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের আলেমসমাজ ও সর্বস্তরের মুসলিম উম্মাহর আকাঙ্ক্ষা—ইসলামপন্থী দলগুলো একটি প্ল্যাটফর্মে থেকে একসঙ্গে কাজ করবে। এ লক্ষ্যেই সামাজিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি ফর্মুলা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সাতটি দলের কাছ থেকে পাওয়া পৃথক প্রস্তাবগুলো হেফাজতে ইসলামের আমির পর্যালোচনা করেছেন। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করে রোববারের বৈঠকে দলগুলোর প্রতিনিধিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। তবে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকায় তা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

মুফতি জসীমউদ্দিন বলেন, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে সাতটি দল থেকে তিনজন করে সদস্য নিয়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি খসড়া রূপরেখা নিয়ে আরও আলোচনা ও সমন্বয় করবে।

বৈঠকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা খলিল আহমদ কাসেমী, নায়েবে আমির মুফতি জসীমউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশির উল্লাহ ও নায়েবে আমির মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া সাত দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী অংশ নেন।

ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকা সাত দল হলো—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।

যেভাবে শুরু ঐক্য প্রক্রিয়া

কওমি ঘরানার ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের উদ্যোগ শুরু হয় গত ১৬ জুলাই। সেদিন ফটিকছড়ির জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাত দলের শীর্ষ নেতারা ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হন।

পরে দলগুলোকে নিজ নিজ প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য ৩ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের জন্য হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে সাত সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়।

হেফাজতে ইসলাম সূত্র জানায়, ১৬ জুলাইয়ের পর উপকমিটিটি অন্তত তিনটি বৈঠক করে। এর মধ্যে দুটি বৈঠক ঢাকায় এবং একটি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ১ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দলগুলোর পৃথক প্রস্তাব পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত খসড়া রূপরেখা তৈরির কাজ শেষ করা হয়।

রোববার ফটিকছড়ির বৈঠকে সেই খসড়া রূপরেখা সাত দলের প্রতিনিধিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। তবে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকায় তা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এখন লিয়াজোঁ কমিটি প্রস্তাবগুলো নিয়ে আরও আলোচনা করবে। আগামী ২২ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের পর ঐক্য প্রক্রিয়ার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কলমাকান্দায় সাংবাদিককে ‘দুই পয়সার’ কটাক্ষ, সমবায় ম্যানেজারের ক্ষোভ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন