বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নরইস্টার ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বাতিল ৫০০ ফ্লাইট

প্রবল ঝড়, বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনবসতিপূর্ণ উত্তর-পূর্বাঞ্চল। শক্তিশালী অফ-সিজন ঝড় ‘নরইস্টারে’ নিউইয়র্ক, বোস্টন ও ফিলাডেলফিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক। ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৫০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, প্রবল বাতাস, বৃষ্টি ও বিশাল ঢেউ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনবসতিপূর্ণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা এ ধরনের অফ-সিজন ঝড়কে ‘নরইস্টার’ বলা হয়। দেশটির পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি, কোথাও তুষারপাত, প্রবল বাতাস ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ে আঘাত হানা এ ঝড়ে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

এবারের ঝড়টি কিছুটা অস্বাভাবিক। সাধারণত বছরের আরও পরের দিকে শুরু হয়ে বসন্তকাল পর্যন্ত এ ধরনের ঝড় দেখা যায়। তবে এবার নিউইয়র্ক, বোস্টন ও ফিলাডেলফিয়াসহ বিভিন্ন শহরে ঝড়টি আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সময় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানায়, পূর্ব উপকূলজুড়ে কয়েক দিন তাণ্ডব চালানোর পর ঝড়টি দুর্বল হয়ে আসছে। এনডব্লিউএস বলেছে, ‘নরইস্টারের সঙ্গে থাকা এক দফা ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড় রোববার রাত থেকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দক্ষিণ নিউ ইংল্যান্ড থেকে উত্তর মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চল পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে।’

রোববার ঝড়টির কেন্দ্রস্থল নিউ জার্সির উপকূলের কাছে অবস্থান করছিল। তবে ঝড়ের মেঘ নিউ ইংল্যান্ডের ওপর দিয়ে অনেক উত্তরে বিস্তৃত ছিল। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের দমকা বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৫ মাইল (৭২ কিলোমিটার) পর্যন্ত উঠেছিল। এর আগে ঝড়ের সময় নিউইয়র্কের মনটক পয়েন্টে ঘণ্টায় ৮১ মাইল বেগে বাতাস বয়ে যায়।

আগামী কয়েক দিনে ঝড়টি পূর্ব দিকে সরে যাওয়ার পর উত্তর দিকে বাঁক নেওয়ার কথা। স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঝড়ের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির একটি সরকারি আবাসন কর্তৃপক্ষের এক কর্মী পার্কিং লট দিয়ে হাঁটার সময় তার ওপর একটি গাছ ভেঙে পড়ে। এতে তিনি নিহত হন।

ঝড়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতেও ব্যাপক দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ৫০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং প্রায় ৬ হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৭২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়, যা বিমানবন্দরটির নির্ধারিত মোট ফ্লাইটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

এ ছাড়া ন্যানটাকেট ও মার্থাস ভিনিয়ার্ডের ছোট বিমানবন্দরগুলোতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

ঝড়ের প্রভাবে উত্তর ক্যারোলিনার বিখ্যাত হাইওয়ে ১২-ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে কয়েকটি দ্বীপের বাসিন্দারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। স্থানীয় পরিবহন কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মতো সড়কের পিচের বড় বড় অংশ বিশাল ঢেউয়ের পানিতে ভেসে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন স্থান থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বড় ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও আবার বন্যায় তলিয়ে যাওয়া শহরের সড়ক দিয়ে কায়াক চালিয়ে চলাচল করছেন মানুষ।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ‘নরইস্টার’ নামটি এসেছে এ ধরনের ঝড়ে বয়ে আসা বাতাসের দিক থেকে। সাধারণত উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এ বাতাস আসে। স্যাটেলাইটের ছবিতে নরইস্টারকে অনেকটা ঘূর্ণিঝড়ের মতো দেখা গেলেও দুই ধরনের ঝড় ভিন্ন প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়।

ঘূর্ণিঝড় সাধারণত গ্রীষ্মের শেষভাগ ও শরতের শুরুর উষ্ণ সময়ে তৈরি হয় এবং উষ্ণ ক্রান্তীয় সমুদ্রের পানি থেকে শক্তি সঞ্চয় করে। অন্যদিকে নরইস্টার সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে বেশি দেখা যায়। কানাডা থেকে আসা ঠান্ডা আর্কটিক বায়ু এবং আটলান্টিক উপকূলের তুলনামূলক উষ্ণ বায়ুর মিশ্রণ থেকে এ ঝড় শক্তি সঞ্চয় করে।

পড়ুন : নেপাল ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের সতর্ক ক‌রলো দূতাবাস

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন