বলিউডে তারকা-সন্তানদের সুযোগ পাওয়া নিয়ে ‘নেপোটিজম’ বিতর্ক দীর্ঘদিনের। তারকা পরিবারের সন্তানরা ইন্ডাস্ট্রিতে তুলনামূলক সহজে প্রবেশের সুযোগ পান—এমন আলোচনা প্রায়ই সামনে আসে। তবে সেই সুযোগকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে পরিণত করতে শেষ পর্যন্ত নিজের যোগ্যতা, পরিশ্রম ও দর্শকের গ্রহণযোগ্যতাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান।
সম্প্রতি ভারতের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ২০’-এর ‘উইকেন্ড কা ভার’ পর্বে নেপোটিজম প্রসঙ্গে কথা বলেন অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক সালমান। এ সময় নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তারকা পরিবারের পরিচয় হয়তো ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশের একটি সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে, কিন্তু সেখানে টিকে থাকা কিংবা সফল হওয়া নির্ভর করে ব্যক্তির নিজের ওপর।
অনুষ্ঠানে অভিনেতা ও রাজনীতিক মনোজ তিওয়ারির মেয়ে রীতির আচরণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রসঙ্গটি তোলেন সালমান। উদিতি সিং ও কাজি তৌকিরের সঙ্গে রীতির আচরণ নিয়ে কথা বলার সময় তাকে তার পারিবারিক পরিচয়ের বিষয়টিও মনে করিয়ে দেন তিনি।
সালমান বলেন, রীতি মনোজ তিওয়ারির মেয়ে। তার বাবা অভিনয়, গান এবং রাজনীতির জগতে পরিচিত একটি নাম। ফলে রীতি যখন কোনো প্ল্যাটফর্মে আসেন, তখন তার পরিচয়ের সঙ্গে বাবার তারকা-খ্যাতিও স্বাভাবিকভাবেই যুক্ত হয়ে যায়। সালমানের মতে, অনেকে এটিকেই নেপোটিজম হিসেবে দেখেন।
রীতিকে উদ্দেশ করে সালমান বলেন, ‘তুমি মনোজ তিওয়ারির মেয়ে। এখন পর্যন্ত মানুষ হয়তো বলছে, তুমি তার মেয়ে বলেই পরিচিতি পেয়েছ। তিনি এত বড় অভিনেতা, গায়ক ও রাজনীতিক—তাই অনেকে মনে করেন, তুমি তার কারণেই এখানে এসেছ। এটাকেই নেপোটিজম বলা হয়। কেউ কেউ এমনও বলে, তোমাকে তো কেউ চেনে না, তবু তুমি এখানে।’
তবে তারকা-সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়াকে কোনোভাবেই সন্তানের দোষ হিসেবে দেখেন না সালমান। বরং একজন বাবা নিজের ক্যারিয়ারে যে জায়গা তৈরি করেছেন, তার সুফল সন্তান পেতেই পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সালমানের ভাষায়, ‘তোমার বাবা অনেক পরিশ্রম করেছেন। তার সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া তোমার দোষ নয়। বরং যেসব বাবারা নিজেদের জায়গা তৈরি করতে অনেক পরিশ্রম করেছেন, তাদের সন্তানরাও সেই পথ ধরে এগিয়ে এসে এখানে জায়গা করে নিয়েছে।’
এরপর নিজের ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সালমান। তিনি জানান, তার বাবা চিত্রনাট্যকার সেলিম খান চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরিবারের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করেন। বাবার পরিচয়ের কারণে তিনি একটি সুযোগ পেয়েছিলেন বলেও স্বীকার করেন সালমান। তবে সেই সুযোগ পাওয়ার পর নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সংগ্রাম আলাদাভাবে করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
সালমান বলেন, ‘আমার বাবা একজন লেখক। তিনি চলচ্চিত্রে ছিলেন, তবে আমাদের পরিবারের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি এই ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলেন। সেখান থেকে আমি একটি সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু আমার সংগ্রাম ছিল আলাদা। আমি মডেলিংয়ের মাধ্যমে শুরু করেছিলাম।’
তারকা পরিবারের সন্তানদের উদাহরণ দিতে গিয়ে সালমান আরও কয়েকজন অভিনেতার নাম উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অভিনেতা অজয় দেবগনের বাবা বীরু দেবগন প্রথমে ফাইটার হিসেবে কাজ করতেন এবং পরে অ্যাকশন ডিরেক্টর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। এরপর তার ছেলে অজয় দেবগন চলচ্চিত্রে আসেন। একইভাবে সানি দেওল, ববি দেওল, জ্যাকি শ্রফ ও হৃতিক রোশনের মতো তারকা-সন্তানদেরও নিজেদের স্বতন্ত্র গুণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সালমানের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, পারিবারিক পরিচয় ক্যারিয়ারের শুরুতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সেটিই সাফল্যের একমাত্র কারণ নয়। ইন্ডাস্ট্রিতে বাইরে থেকে আসা অনেক মানুষ যেমন সফল হয়েছেন, তেমনি অনেকেই প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি। একই ঘটনা তারকা পরিবারের সন্তানদের ক্ষেত্রেও ঘটে বলে মনে করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সালমান বলেন, ‘অনেক তারকা-সন্তান প্রথম সিনেমার সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু এরপর জনপ্রিয় হতে পারেনি। তারা দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারেনি। আবার অনেকে পেরেছে। তাই তোমার বাবার পরিশ্রম তোমাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। এরপর তোমার সাফল্য নির্ভর করবে তোমার নিজের ওপর।’
অর্থাৎ সালমানের বক্তব্য অনুযায়ী, একজন তারকা-সন্তান পারিবারিক পরিচয়ের কারণে হয়তো প্রথম সুযোগটি তুলনামূলক সহজে পেতে পারেন। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দর্শকের কাছে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। সেখানে অভিনয় দক্ষতা, পরিশ্রম, ব্যক্তিত্ব এবং দর্শকের সঙ্গে সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রীতির ক্ষেত্রেও সালমান বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন। তারকা-সন্তান হওয়ার কারণে তিনি ‘বিগ বস’-এর ঘরে কোনো বিশেষ সুবিধা পাবেন না। বরং তার আচরণ ও সিদ্ধান্তের দায় তাকেই নিতে হবে। একই সঙ্গে তার আচরণের প্রভাব তার বাবা মনোজ তিওয়ারির ভাবমূর্তিতেও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন সালমান।
বলিউডে নেপোটিজম নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তারকা পরিবারের সন্তানদের জন্য সুযোগের দরজা খোলা থাকে কি না, কিংবা সেই সুযোগ তাদের ক্যারিয়ারে কতটা প্রভাব ফেলে—এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। সালমানের বক্তব্যে সেই বিতর্কেরই একটি দিক উঠে এসেছে। তার মতে, পারিবারিক পরিচয় হয়তো পথের শুরুতে একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের জায়গা তৈরি করার দায়িত্ব ব্যক্তির নিজেরই।
পড়ুন:বাংলাদেশ থেকে অস্কারে যাচ্ছে ‘রইদ’
ইমি/


