বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শিক্ষক নিয়োগে অন্যায়ভাবে একজন বাদ পড়লেও তার পক্ষে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে অন্যায়ভাবে একজনকেও বাদ দেওয়া হলে তার পক্ষে লড়বে এনসিপি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এনসিপির কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া আড়াই হাজার জনের প্রত্যেককে চাকরিতে নিয়োগ দিতে হবে। তাদের কারও বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ না থাকলে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, অন্যায়ভাবে যদি একজনকেও বাদ দেওয়া হয়, তাহলে এনসিপি তার পক্ষে লড়বে।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জাতিসংঘে যে বক্তব্য তারেক রহমান দিয়েছেন, তাতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা উঠে আসেনি। তিনি সেখানে দলীয় এজেন্ডা তুলে ধরেছেন। যে এজেন্ডাগুলো ইতোমধ্যে ব্যর্থ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অথচ বর্তমান যে জ্বালানি সংকট সেটি তিনি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরতে পারেননি।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সবচেয়ে রক্তাক্ত সীমান্ত। সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে কিছু বলেননি তিনি। পুশইন নিয়ে কোনো কিছু বলেননি তিনি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বললে কীভাবে সমাধান হবে সেটি বলেননি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না, সেটি তিনি বলতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, গণহত্যার কথা তিনি তুলে ধরতে পারেননি। জাতিসংঘে আমাদের কী অর্জন সেটি জনগণের কাছে স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, নিয়োগপত্র পাওয়ার দাবিতে রোববার দিনভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। দাবি পূরণ না হলে সোমবার সকাল ১০টা থেকে আবারও শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তারা।

এর আগে নিয়োগপত্রের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন নিয়োগবঞ্চিত চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক প্রার্থীরা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এর আগে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। পরে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে রোববার সমাবেশ করার ঘোষণা দেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। আন্দোলনের জন্য তারা ‘সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন।

প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশনে অন্তত ২ হাজার প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি।

সোমবার থেকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান তারা।

আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গেলেও কারও সঙ্গে আলোচনা করতে পারেনি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে ভোলা থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের ডেকে নেয়ার পর মন্ত্রী, সচিব বা উপ-সচিব পর্যায় থেকে কেউ দেখা করেননি। আমাদের সাথে প্রহসনমূলক আচরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৬৪ জেলার নিয়োগবঞ্চিতরা নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মসুচি অব্যাহত রাখব। সুখবর হচ্ছে, কিছু কিছু জেলায় নিয়োগপত্র দিচ্ছে।

আগামীকালের মধ্যে নিয়োগপত্র না পেলে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যাব।

পড়ুন : প্রাথমিকের নিয়োগ বঞ্চিত ৮১৭ জন, ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন