শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখেছিল ফ্রান্স। বল দখল থেকে শুরু করে গোলের সুযোগ তৈরি—সব দিক থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য ছিল তাদের। তবে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেও বারবার গোলের সুযোগ নষ্ট হচ্ছিল। দলের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপের অনুপস্থিতি যেন স্পষ্টভাবেই অনুভব করছিল ফ্রান্স। শেষ পর্যন্ত অবশ্য বদলি হিসেবে মাঠে নামা মাইকেল ওলিসে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে তার দুর্দান্ত গোলে জয় নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।
ব্রাসেলসে রোববার রাতে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র দুই মিনিট আগে গোল করে দলের টানা দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করেন ওলিসে। এই জয়ের ফলে নেশনস লিগের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে ফ্রান্স।
চোটের কারণে আগেই এই ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন এমবাপে। দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ডকে ছাড়াই বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামে ফ্রান্স। তবে তার অনুপস্থিতিতে আক্রমণের ধার খুব একটা কমেনি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে নিয়মিত চাপের মধ্যে রাখেন ফরাসি ফরোয়ার্ডরা।
পুরো ম্যাচে প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল ফ্রান্স। গোলের জন্য তারা নেয় মোট ১৬টি শট, যার মধ্যে ৯টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে বেলজিয়াম ১০টি শট নিলেও মাত্র দুটি ছিল লক্ষ্যে। তবে বেলজিয়ামের ওই দুটি প্রচেষ্টাও ফ্রান্সের রক্ষণ ও গোলরক্ষকের জন্য বড় কোনো বিপদ তৈরি করতে পারেনি।
নেশনস লিগে তুরস্কের বিপক্ষে একই ব্যবধানে জয় দিয়ে এবারের অভিযান শুরু করেছিল ফ্রান্স। সেই ম্যাচের শুরুর একাদশ থেকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নয়টি পরিবর্তন আনেন কোচ জিনেদিন জিদান। এত পরিবর্তনের পরও দলের খেলায় তেমন কোনো ছন্দপতন দেখা যায়নি।
বরং নতুনদের নিয়ে গড়া দলটিই ম্যাচের শুরু থেকে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে থাকে। প্রায় ১৬ বছর পর ফ্রান্সের জার্সিতে একসঙ্গে অভিষেক হয় তিন ফুটবলারের। প্রথমবার জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেন জেরেমি জ্যাকে, অ্যান্ডি দিওফ ও লুকাস দা কুনহা।
অভিষেক হওয়া ফুটবলারদের পাশাপাশি দলের অন্য খেলোয়াড়রাও আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একের পর এক আক্রমণ তৈরি করতে থাকে ফ্রান্স। বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে বেশ কয়েকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছায় তারা।
প্রথমার্ধেই ফ্রান্স একাধিক ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ে ব্যর্থ হওয়ায় গোলের দেখা পায়নি তারা। বেলজিয়ামের গোলরক্ষকও কয়েকটি প্রচেষ্টা প্রতিহত করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। ফলে প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। ফ্রান্স বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণে যেতে থাকে। বেলজিয়ামও মাঝে মাঝে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে, কিন্তু ফরাসি রক্ষণভাগ তা সামলে নেয়। অন্যদিকে ফ্রান্স বারবার সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারছিল না।
ম্যাচের সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই মনে হচ্ছিল গোলশূন্য ড্র নিয়েই শেষ হতে পারে লড়াই। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন ওলিসে। ৭৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা এই ফুটবলার ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন।
রায়ান শেরকির কাছ থেকে বল পেয়ে অনেকটা পথ এগিয়ে যান ওলিসে। এরপর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের চাপ সামলে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। তার এই গোলেই ভাঙে দীর্ঘ সময়ের অচলাবস্থা। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।
এ জয়ের ফলে নেশনস লিগে দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে ফ্রান্স। ‘এ’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানও ধরে রেখেছে তারা। অন্যদিকে দুই ম্যাচে বেলজিয়ামের সংগ্রহ তিন পয়েন্ট।
এমবাপের অনুপস্থিতিতে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, বেলজিয়ামের বিপক্ষে দলীয় পারফরম্যান্সে তার অনেকটাই জবাব দিয়েছে ফ্রান্স। যদিও গোলের জন্য তাদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওলিসের অসাধারণ ফিনিশিং এনে দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট।
এখন ফ্রান্সের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। আগামী শুক্রবার রাতে নেশনস লিগের পরের ম্যাচে ইতালির মুখোমুখি হবে তারা। সেই ম্যাচে এমবাপে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়েও থাকবে আগ্রহ। তবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে পাওয়া এই জয় ফ্রান্সকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরের ম্যাচে নামার সুযোগ করে দিয়েছে।
পড়ুন:সিঙ্গাপুরের কাছেও হারল বাংলাদেশ
ইমি/


