পিরোজপুরের নেছারাবাদে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ৩০ প্যাকেট দুধ বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন স্থানীয় যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার কয়েক দিন পর ২৭ প্যাকেট দুধ বিদ্যালয়ে ফেরত দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট তিন প্যাকেট দুধ খেয়ে ফেলার কথা জানিয়েছেন অভিযুক্তদের একজন।
ঘটনাটি উপজেলার ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত শুক্রবার ঘটে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম জানান, নৌকাবাইচ উপলক্ষে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করতে ওই দিন বিদ্যালয় খোলা হয়েছিল। এ সময় শিক্ষকরা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ৭৯ প্যাকেট দুধের মধ্য থেকে ৩০ প্যাকেট নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সহকারী শিক্ষিকা মোসা. আশা জানান, স্থানীয় তিন যুবক দুধগুলো নিয়ে গেছেন বলে তারা জানতে পারেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বুধবার সকালে অভিযুক্ত মো. নাদিম মাহমুদ ও তাঁর দুই সহযোগী বিদ্যালয়ে গিয়ে ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দেন।
অভিযুক্ত নাদিম মাহমুদের দাবি, তাঁরা তিন বন্ধু মিলে তিন প্যাকেট দুধ নিয়ে খেয়েছেন। এসব দুধ শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ এ বিষয়টি তাঁরা জানতেন না বলেও দাবি করেন তিনি। পরে দুধগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ জানতে পেরে বিদ্যালয়ে গিয়ে ২৭ প্যাকেট ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানান নাদিম।
এদিকে, ঘটনার পর কয়েক দিন অতিবাহিত হলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসকে বিষয়টি অবহিত না করার কারণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধান শিক্ষককে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে বিদ্যালয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ ও বিতরণে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পড়ুন : কুষ্টিয়ায় আটক স্কুল শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ
সা/


