রাজধানীর মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম জড়ানোর পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে যান তিনি।
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বেও ছিলেন। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপরই তার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির একটি সূত্র তার পদত্যাগের নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর আগে দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানা গিয়েছিল, মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মিষ্টির বিরুদ্ধে বিএনপি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। একই ঘটনায় সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে। ঘটনার পর দলীয় পর্যায়ে মিষ্টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আলোচনা শুরু হয়।
এর একদিন পর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
রাড্ডা কাণ্ডের আগে থেকেই মিষ্টির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও বিতর্ক ছিল। তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের কারণে তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
তবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় আরও আগে। কলেজ জীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএসের দায়িত্বও পালন করেন। পরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।
মিষ্টির রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে তার পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। লালবাগ থেকে নির্বাচিত বিএনপির প্রয়াত সাবেক এমপি এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু ছিলেন তার বড় ভাই।
তার স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। বিএনপির ২০০১-২০০৬ সালের শাসনামলে তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি নিজেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। মিরপুরকে ঘিরেই তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় একটি অংশ গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে তার একটি রাজনৈতিক বলয় ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বাবা হাজী মো. নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং মা হাজী মোছা. হোসনে আরা আহমেদ। রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পেশাগত জীবনে তিনি একজন ব্যবসায়ী।
এরপর বিএনপির মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
মিষ্টির সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ এর সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-২ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩২৩ মহিলা আসন-২৩ আসনটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একই তারিখে শূন্য হয়েছে।
পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
আর/


