বরগুনার তালতলী উপজেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছ কেটে কার্যালয়ে জ্বালানি (লাকড়ি) হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে নলবুনিয়া বিট কর্মকর্তা মো. শাওনের বিরুদ্ধে। বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার এমন কাণ্ডে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নলবুনিয়া বিট কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পর্যটন স্পট ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন বনের বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে টুকরো টুকরো করে বিট কর্মকর্তার কার্যালয় সামনে স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
কার্যালয়ের পেছনের রান্নাঘর, সেই কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে রান্না করা হচ্ছে। রান্নাঘরের পাশেও আরও কাঠ মজুদ করে রাখা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, সংরক্ষিত বনের গাছ কাটা যেখানে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, সেখানে বন বিভাগের কার্যালয়েই কিভাবে সেই অবৈধ কাঠ প্রকাশ্যে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।তাহলে বলা যেতে পারে বনের রক্ষক যখন ভক্ষক।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, টেংরাগিরি বনে দীর্ঘদিন ধরেই গাছ কাটার উৎসব চলছে। কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে এবং অনেক সময় দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে গাছ কেটে ট্রলারে করে পাচার করে দিচ্ছে। আর এই কাজে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
নিশানবাড়িয়া এলাকার একাধিক বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, বনের গাছপালা রক্ষা করার দায়িত্ব যাদের ওপর, তারাই যদি এভাবে গাছ কাটে, তাহলে বন থাকবে কিভাবে? আমরা একটা ডাল কাটলে আমাদের নামে মামলা হয়, আর তারা আস্ত গাছ কেটে রান্না করছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমান বলেন , সরকার যেখানে সারা দেশে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছে। সেখানে বন বিভাগ নিজেই উল্টো বনের মূল্যবান গাছ জ্বালানি কাঠ হিসেবে চুলায় পোড়াচ্ছে। যাদের উপর বন সুরক্ষার দায়িত্ব, তারাই যদি রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে, তবে কোনোভাবেই বন ও পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে এবং উপকূলীয় জনপদ চরম দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়বে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নলবুনিয়া বিট কর্মকর্তা মো. শাওন বনের গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি স্বীকার করলেও এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। উল্টো সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।
এবিষয়ে বন বিভাগের বরগুনা কার্যালয়ের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন ভূঞা বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে গাছগুলো দ্রুত অপসারণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন:হেলমেট ছুড়ে ফেললেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান
ইমি/


