উয়েফা নেশনস লিগে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছে স্পেন। চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শনিবার (৩ অক্টোবর) ওভিয়েদোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্পেনের হয়ে গোল করেছেন লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো ও মিকেল মেরিনো। চেক প্রজাতন্ত্রের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন জিরি স্লামা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিক স্পেন। বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে তারা। এর ফলও আসে খুব দ্রুত। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যায় স্পেন। বক্সের বাইরে থেকে লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত বাঁকানো শট চেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। তরুণ এই ফরোয়ার্ডের নৈপুণ্যে শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নেয় স্বাগতিকরা।
প্রথম গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি স্পেন। দানি ওলমো, রদ্রি ও লামিনে ইয়ামালের সমন্বয়ে চেক রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে দলটি। একের পর এক আক্রমণের পর ম্যাচের ৩৫ মিনিটে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় স্পেন।
রদ্রির সঙ্গে দারুণ আক্রমণ গড়ে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান দানি ওলমো। তার গোলে ব্যবধান ২-০ করে স্পেন। এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় দুই গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা শুরু করে চেক প্রজাতন্ত্র। আগের তুলনায় আক্রমণে কিছুটা বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠে সফরকারীরা। ৬৯ মিনিটে সেই প্রচেষ্টার ফলও আসে। জিরি স্লামা গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন। ফলে ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং সমতায় ফেরার আশা দেখতে শুরু করে চেক প্রজাতন্ত্র।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে তাদের সেই আশা বড় ধাক্কা খায়। লাদিস্লাভ ক্রেইচি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় চেক প্রজাতন্ত্র। একজন কম নিয়ে খেলার সুযোগ কাজে লাগাতে দেরি করেনি স্পেন।
ম্যাচের ৮৯ মিনিটে জয় নিশ্চিত করা তৃতীয় গোলটি করেন মিকেল মেরিনো। চেক রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল জালে পাঠান আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার। তার গোলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন এবং শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
এই জয়ের ফলে নেশনস লিগের গ্রুপ ‘এ৩’-এ নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে স্পেন। তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। একই দিনে ক্রোয়েশিয়াকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে ইংলিশরা।
চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার কৃতিত্বও অর্জন করেছে স্পেন। একই সঙ্গে জয়ের ধারাও অব্যাহত রেখেছে দলটি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে এবারের নেশনস লিগে স্পেনকে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্পেনের সামনে এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অপেক্ষা করছে। আগামী মঙ্গলবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। ওই ম্যাচে জয় পেলে গ্রুপ পর্বের আরও দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে স্পেনের। ফলে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গ্রুপ পর্বে আগামী ১২ নভেম্বর প্রাগে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচ খেলবে স্পেন। এরপর ১৫ নভেম্বর মাদ্রিদের মেট্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে তারা। শেষ দুই ম্যাচের ফল গ্রুপের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নেশনস লিগে সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের পারফরম্যান্সও বেশ ধারাবাহিক। ২০২৩ সালে টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল তারা। এর আগে ২০২১ সালে রানার্সআপ হয়েছিল দলটি। ২০২৫ সালের আসরেও ফাইনালে উঠে রানার্সআপ হয় স্পেন। ফলে এবারের আসরে শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এগোচ্ছে দলটি।
চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় সেই লক্ষ্যে স্পেনকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া দলটি ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে। বিশেষ করে লামিনে ইয়ামালের শুরুতেই করা গোল এবং শেষ দিকে মিকেল মেরিনোর গোল স্পেনের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
টানা তিন জয় ও ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থাকা স্পেন এখন কোয়ার্টার-ফাইনালের জায়গা নিশ্চিত করার অপেক্ষায়। আগামী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় পেলে সেই লক্ষ্যও পূরণ হতে পারে।
পড়ুন:ঐতিহাসিক ম্যাচে ভারতের জালে এক হালি ব্রাজিলের
ইমি/


