ফারাক্কাবাদ কলেজের কর্মচারী মিরা রানী বর্ধনের নিয়োগ ও সম্পদ নিয়ে নানা অভিযোগ

চাঁদপুরের ফারাক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজে নিম্নমান সহকারী পদে কর্মরত মিরা রানী বর্ধনের নিয়োগ, কর্মস্থলে উপস্থিতি, দায়িত্ব পালন এবং তার নামে থাকা সম্পদ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারীদের দাবি, ১৯৯৮ সালে তৎকালীন সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে মিরা রানী বর্ধন প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও নিয়োগপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই কলেজে চাকরি পেয়েছেন। তবে তার নিয়োগের বৈধতা ও অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

কলেজের কয়েকজন কর্মচারী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই মিরা রানী বর্ধনকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম এবং ইচ্ছামতো কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

এদিকে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তার নামে থাকা কথিত বিপুল সম্পদ। স্থানীয়দের দাবি, চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ফরিদগঞ্জের আস্টা বাজার এলাকায় তার কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এছাড়া বাড়িতে বিলাসবহুল স্থাপনা, গরু ও মুরগির খামারসহ বিভিন্ন সম্পদ থাকার কথাও জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের আরও দাবি, মিরা রানী বর্ধনের স্বামী পেশায় গ্রাম্য চিকিৎসক এবং বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্যাথলজি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রোগী রেফার ও কমিশনভিত্তিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।

অন্যদিকে মিরা রানী বর্ধনের ছেলে প্রসেনজিৎ সরকার একই সময়ে ফরাক্কাবাদ কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়ন এবং কুর্মিটোলা হাসপাতালে নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করছেন—এমন তথ্যও প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। একই সময়ে দুটি নিয়মিত কোর্সে অধ্যয়ন করা বিধিসম্মত কি না, তা সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রেকর্ড যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর কয়েকজন আরও অভিযোগ করেছেন, প্রসেনজিৎ সরকার আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তবে এসব রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দাবির পক্ষে সংশ্লিষ্ট দলীয় নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ যাচাই করা যায়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, মিরা রানী বর্ধনের নিয়োগের সময়কার কাগজপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, চাকরির বয়স ও বেতন-ভাতা, উপস্থিতির রেকর্ড, সম্পদের বিবরণ এবং আয়কর নথি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে মিরা রানী বর্ধন, ফরাক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

পড়ুন : অটোরিকশা চলাচলে দ্রুত নীতিমালা হচ্ছে: সড়কমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন