ঢাকার ধামরাইয়ে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর প্রায় আট মাসের গর্ভধারণের ঘটনা ঘিরে এক যুবকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির মায়ের দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলামিন নামে ওই যুবক তার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে মেয়েকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তার গর্ভধারণের বিষয়টি জানা যায় বলে দাবি পরিবারের।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলামিনের বাবা মো. শর্বেশ আলী। তাঁর দাবি, তাঁর ছেলে শিশুটির সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক বা শারীরিক যোগাযোগের কথা স্বীকার করেনি। ঘটনার প্রকৃত সত্য তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় এখনো পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিশুটির পরিবার ধামরাই উপজেলার সুন্দর কাঠালিয়া এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির বাবা মোক্তার প্রবাসে থাকেন। মা দিনমজুরি ও বিভিন্ন কাজ করে সংসার চালান। আর্থিক সংকটের পাশাপাশি কাজের ব্যস্ততার কারণে মেয়ের প্রতি সবসময় নজর রাখা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
শিশুটির মায়ের দাবি, মেয়ের আচরণে পরিবর্তন দেখতে পেয়ে তিনি বিষয়টি জানতে চান। পরে মেয়ের কাছ থেকে আলামিন নামে এক যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। এরপর মেয়েকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে পরীক্ষা করালে সে গর্ভবতী এবং গর্ভধারণের সময়কাল প্রায় আট মাস বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন—এমন দাবি করেছেন শিশুটির মা।
ঘটনার বিষয়ে ধারণ করা এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে শিশুটি ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তার বক্তব্য জানিয়েছে। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে আলামিন তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। পরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়। একপর্যায়ে ওই যুবক তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তার পরিবারের কাছেও বিয়ে করার কথা বলেছিল বলে দাবি শিশুটির।
শিশুটির অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক সম্পর্ক করা হয়। পরে সে গর্ভবতী হয় বলে দাবি করেছে শিশুটি।
তার আরও দাবি, বিষয়টি কাউকে জানালে স্কুল থেকে ফেরার পথে তাকে মারধর করা হবে বলে ভয় দেখানো হয়েছিল। এ কারণে ভয়ে দীর্ঘদিন সে বিষয়টি পরিবারের কাছে জানাতে পারেনি।
বর্তমানে ঘটনার বিচার দাবি করেছে শিশুটি। তার ভাষ্য, আলামিন এখন ঘটনাটি অস্বীকার করলেও এর আগে তাকে বিভিন্ন সময়ে ডেকে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের বাসায়ও ওই যুবকের আসা-যাওয়া ছিল।
শিশুটির বক্তব্য অনুযায়ী, স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাদের দেখা হতো। কখনো কখনো তার বাবা-মা বাড়িতে না থাকলে আলামিন তাদের বাসায় আসত বলেও দাবি করেছে সে।
অন্যদিকে আলামিনের বাবা মো. শর্বেশ আলী তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, আলামিন শিশুটির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক বা শারীরিক যোগাযোগের কথা স্বীকার করেনি।
এক সাক্ষাৎকারে শর্বেশ আলী বলেন, স্থানীয় লোকজন তাঁর ছেলেকে এ বিষয়ে সত্য কথা বলতে বলেছিলেন। তখন আলামিন দাবি করেছে, ওই শিশুর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং সে তাকে কখনো স্পর্শও করেনি।
শর্বেশ আলী বলেন, তিনি ঘটনার সত্যতা পরীক্ষা ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে চান। তাঁর বক্তব্য, তাঁর ছেলে দায়ী প্রমাণিত হলে পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে তারা পিছপা হবেন না।
তিনি আরও দাবি করেন, লোকমুখে আরও দুজন ছেলের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে তারা কারা, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি। তাঁর ভাষ্য, অন্য শিশুদের কাছ থেকেই তিনি এসব কথা শুনেছেন।
এদিকে ধামরাই থানার কাউলিপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন মুঠোফোনে জানান, এ ঘটনায় এখনো তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।
তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি। আপনাদের মিডিয়ার কর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পড়ুন: ল্যাবকর্মীর মৃত্যু ঘিরে প্লেগ আতঙ্ক, ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কতটা
আর/


