মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের উত্তাপ, বাড়ল তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে দরপতন হয়েছে। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) লেনদেন শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়ায়। দিনের একপর্যায়ে দাম ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পর তেলের দাম কিছুটা কমে আসে।

এদিকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর দর প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

রিয়াদকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে ঘিরেও।

বৃহস্পতিবার সকালে হুতি বিদ্রোহীদের এক সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার এবং জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।

হরমুজ ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে গত এক মাসে তেল ও গ্যাস পরিবহনের পরিমাণ বেড়েছে। কয়েক মাস ধরে ইরানের অবরোধের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলেও মার্কিন বাহিনীর দিকনির্দেশনা ও নিরাপত্তা সহায়তায় কিছু প্রতিষ্ঠান আবারও এ পথে জাহাজ চালানোর ঝুঁকি নিচ্ছে।

তবে গত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। ফলে এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে, হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত বাড়ায় লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি রপ্তানি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল পরিবহনের বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা

জ্বালানিবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হোর্হে লিওনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম কমার প্রত্যাশা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর অঞ্চলের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।

লিওন আরও বলেন, ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার তাঁর বক্তব্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এর প্রভাব পড়তে পারে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

পড়ুন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাতের আঁধারে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, আহত ১৫

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন