‘কেউ মারা গেলে তার অপরাধ মুছে যায় না’, ক্ষোভ তনুশ্রী দত্তের

বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। ২০১৮ সালে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলার পর থেকে তার জীবন কীভাবে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তা তুলে ধরেছেন তিনি। তনুশ্রীর দাবি, ওই ঘটনার পর থেকে তাকে নানা ধরনের হুমকি ও হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গোয়ায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর পরদিন শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা ও ক্ষোভের কথা জানান তনুশ্রী।

২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি আইটেম গানের শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকর তার সঙ্গে অসদাচরণ করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছিলেন তনুশ্রী। ২০১৮ সালের অক্টোবরের তিনি আবারও সেই অভিযোগ সামনে আনেন। এর মধ্য দিয়ে ভারতে #MeToo আন্দোলন নতুন গতি পায়। তবে নানা পাটেকর বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে মামলাটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

ইনস্টাগ্রামের ভিডিওতে তনুশ্রী বলেন, #MeToo আন্দোলনের পর তার জীবনে এমন সব ঘটনা ঘটেছে, যা প্রকাশ্যে বর্ণনা করাও কঠিন। আগে তিনি সপ্তাহে পাঁচ দিন শরীরচর্চা করতেন এবং নির্ভয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। কিন্তু অভিযোগ তোলার পর তার সেই স্বাভাবিক জীবন বদলে যায়।

তনুশ্রীর ভাষ্য, ‘#MeToo-র পর আমার সঙ্গে এমন সব ঘটনা ঘটেছে, যা ইনস্টাগ্রামে বলতেও পারব না। মানুষ জানে না, আমাকে কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ২০২৪ সালে কেউ আমার গাড়ির ব্রেক কেটে দিয়েছিল। #MeToo আন্দোলনের পর থেকে গুন্ডারা আমাকে সর্বত্র অনুসরণ করত।’তিনি আরও দাবি করেন, তার জীবনের ওপর একাধিকবার হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের দুর্ভোগের সামান্য অংশই তিনি তুলে ধরেছেন বলেও জানান এই অভিনেত্রী।নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর জানার পরপরই ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন তনুশ্রী। সেখানে তিনি বলেছিলেন, কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা ঠিক করার পরই এ বিষয়ে মুখ খুলবেন। তনুশ্রীর বক্তব্য, ওই দিন তার বিভিন্ন লাইভ অনুষ্ঠান ও কনটেন্ট প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে সেই খবর।

পরবর্তী ভিডিওতে তিনি বলেন, একজনের সঙ্গে অন্য মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তার নিজের অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

তনুশ্রীর কথায়, ‘কেউ মারা গেছেন বলে তার জীবনের সব অপরাধ মুছে যায় না। তিনি যাদের হয়রানি করেছেন, যাদের ভুক্তভোগী করেছেন, তাদের হিসাব কি এখানেই শেষ হয়ে যায়?’

তিনি জানান, মৃত্যুর পরপরই প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে কয়েক দিন অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে তাকে আবারও নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে।

নানা পাটেকরকে ক্ষমা করে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে অনেকে তাকে বার্তা পাঠاচ্ছেন বলে জানান তনুশ্রী। তবে তার দাবি, নানা পাটেকর কখনো তার কাছে ক্ষমা চাননি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরও ক্ষমা করেন না, যদি কেউ ক্ষমা না চায়। প্রথমে ক্ষমা চাইতে হবে, নিজের ভুল স্বীকার করতে হবে। বলতে হবে, আমি এই অন্যায় করেছি, কারও জীবন নষ্ট করেছি এবং অন্যদের সঙ্গে মিলে একজনের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছি।’

পড়ুন : নানা পাটেকরকে স্মরণ করে তারিক আনাম খান, লিখলেন আবেগঘন পোস্ট

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন