ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টায় সভায় বসবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ. এম. এম. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ইসির উপসচিব মো. শাহ্ আলমের স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে, স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচনসমূহের বিষয়ে আলোচনা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ নির্ধারণ। পার্সোনালাইজেশন সেন্টারে অবস্থিত মেশিনসমূহের অবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ, কার্ড প্রিন্ট, বকেয়া বিল পরিশোধ, নতুন চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদি বিষয়ে গঠিত কমিটির কার্যবিবরণী পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত দেওয়া। জাতীয় নির্বাচন পদক নীতিমালা ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন এবং বিবিধ।
গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, সোমবার কমিশন সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হবে।
তিনি বলেন, আগামী সোমবার আমাদের কমিশন সভা রয়েছে। সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঠিক করে তা ঘোষণা করবো— নির্বাচনটি কয় স্লটে হবে এবং কবে কবে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইউপি নির্বাচনের তফসিল নির্বাচন কমিশন থেকে ঘোষণা করা হবে না। তফসিল ঘোষণা করবেন মাঠ পর্যায়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। কমিশন শুধু নির্বাচনের স্লটগুলো বলে দেবে। আমরা শুরুতে যা বলেছিলাম, আশা করি সেই সময়ের মধ্যেই সব স্লট শেষ হয়ে যাবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি: চিফ হুইপ
সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি। এ ছাড়া এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না।
রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের বিষয়ে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সাধারণত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা যাবে না। প্রকৃত জনসমর্থন রয়েছে, এমন প্রার্থীই যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে দল। এ জন্য তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো কাজে লাগানো হবে।
তিনি বলেন, এবার দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে না। বিএনপি চায়, নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক এবং স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন।
তৃণমূলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে দল কী ব্যবস্থা নেবে এমন প্রশ্নে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, এ বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এখনো এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
পড়ুন : চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


