বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকারের মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্রোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, করোনারি আর্টারি ডিজিজের কারণে হৃদ্যন্ত্রে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে অভিনেতার মৃত্যুসংক্রান্ত এই তথ্য এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের সত্যতা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৭৫ বছর বয়সে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গোয়ায় নিজের বাড়িতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় নানা পাটেকারকে। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তাঁর মরদেহ গোয়া মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে করোনারি আর্টারি ডিজিজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই রোগে হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে সংকোচন বা বাধা সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে হৃদ্যন্ত্রের পেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে সমস্যা হয়। গুরুতর পরিস্থিতিতে এ কারণে হার্ট অ্যাটাকসহ প্রাণঘাতী জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তবে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ। নানা পাটেকারের ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রদত্ত বিবরণে আরও বলা হয়েছে, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন নানা পাটেকার। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে বুকে ব্যথা ও শরীর খারাপ লাগার কথা জানিয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমেয় নায়েককে বার্তা পাঠিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরে বন্ধুকে ফোন করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
বর্ণনা অনুযায়ী, রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে বার্তাটি দেখার পর আমেয় নায়েক অভিনেতার ডোনা পাওলার বাড়িতে যান। সেখানে তাঁকে সোফায় ঘামভেজা ও অচেতন অবস্থায় দেখতে পান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি, হাসপাতালের বক্তব্য কিংবা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রয়োজন। যাচাই ছাড়া ব্যক্তিগত বার্তা, অসুস্থতার সময় বা মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।
ভারতীয় চলচ্চিত্রে নানা পাটেকার একজন পরিচিত অভিনেতা। শক্তিশালী অভিনয়, স্বতন্ত্র সংলাপ বলার ধরন এবং বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের কাছে পরিচিত তিনি। হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে তাঁর কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তাঁর শারীরিক অবস্থা কিংবা মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো খবর প্রকাশিত হলে তা পরিবারের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণা এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
পড়ুন:‘বার্থডে গার্ল’ লুকে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন অপু বিশ্বাস
ইমি/


